ভারত-মার্কিন চুক্তিতে চিন্তা বাড়ল ইউনূসের! নির্বাচনের আবহে কী পরিল্পকনা বাংলাদেশের?

Published on:

Published on:

Bangladesh raises concern after India-US-Trade deal.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার পরই উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারের অন্দরে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সমঝোতার খবর সামনে আসতেই ঢাকা চাইছে যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি আলাদা বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে। এই আবহে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে আমেরিকার সঙ্গে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে এগোচ্ছে বলে খবর। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে চালানো হচ্ছে বলেই অভিযোগ, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে প্রশ্ন বাড়ছে।

ভারত-মার্কিন চুক্তিতে চিন্তা বাড়ল বাংলাদেশের (Bangladesh):

বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ইউনূস কেন এত তাড়াহুড়ো করে এই চুক্তিতে সই করতে চাইছেন। নির্বাচন-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতেই তো নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যেত—তবে কেন ভোটের ঠিক আগে এত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি? এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও রাজনৈতিক বা কৌশলগত চাপ কাজ করছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ রেল বিপত্তি! লাইনচ্যুত NJP–চেন্নাই সুপারফাস্ট, আতঙ্কে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ যাত্রীদের

‘ইন্ডিয়া টুডে’-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির গোপনীয়তা বাংলাদেশের রপ্তানি সংস্থা এবং বিশেষত টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, চুক্তির শর্ত যদি প্রতিকূল হয়, তা হলে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হতে পারে।

বাংলাদেশি শিল্পপতিরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কে এমনিতেই দেশের টেক্সটাইল শিল্প চাপে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে যদি নতুন কোনও চুক্তি এই খাতকে আরও দুর্বল করে দেয়, তবে তার প্রভাব গোটা অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির মূল নজর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী তৈরি পোশাক শিল্পের দিকেই থাকতে পারে।

Bangladesh raises concern after India-US-Trade deal.

আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপের আগে চিন্তা বাড়ল টিম ইন্ডিয়ার! চোটের সম্মুখীন এই তারকা প্লেয়ার

চুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসা ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল নির্বাচন আয়োজন করা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ তার ঠিক কয়েক দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনার খবর সামনে আসছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদের মতে, নির্বাচনের মুখে এর আগে বন্দর লিজ ও অস্ত্র আমদানির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমেরিকার সঙ্গে এই গোপন চুক্তি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।