বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বুলডোজার চালিয়ে দোকান ভাঙা ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। সেই মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের তরফের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাজ্যের নানা এলাকায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চলছে। পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে আদালতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) বুলডোজার ও ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা
নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি দোকান ও নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাটি ওঠে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানির শুরুতে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, যেসব জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে, সেগুলি ঠিক করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে “বুলডোজার কালচার” শুরু হয়েছে। হকার জোনেও বুলডোজার চালিয়ে দোকান ভাঙা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপর সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আদালতে (Calcutta High Court) বলেন, তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে এবং সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, খেজুরিতে ৬০টি দোকানে আগুন লাগানো হয়েছে। ডোমজুড়েও তৃণমূল নেতা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ১০ জন মারা গিয়েছেন এবং ১৫০-১৬০টি পার্টি অফিসে আগুন লাগানো হয়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া বলেও তিনি জানান। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের উপরও হামলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আদালতের (Calcutta High Court) নির্দেশ ছাড়া বুলডোজার অভিযান চালানো উচিত নয়। পাশাপাশি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের দাবিও জানান।
এই সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁকেও বক্তব্য রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। তখন মমতা বলেন, “এটা পশ্চিমবঙ্গ, এটা উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে এভাবে বুলডোজার চালানো যায় না।” তিনি আদালতে (Calcutta High Court) আহতদের ছবি দেখান এবং দাবি করেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হচ্ছে। মমতা বলেন, “বাচ্চা, মহিলা কাউকেই ছাড়া হচ্ছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ FIR নিচ্ছে না।
মমতার দাবি, অনেক মানুষ ভয়ে বাড়ি ছাড়তে পারছেন না। মাছের বাজার ও মাংসের বাজারও ভাঙা হচ্ছে বলে তিনি আদালতে (Calcutta High Court) জানান। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদনও করেন তিনি। বিচারপতি পার্থসারথী সেন জানতে চান, এই অভিযোগগুলি হলফনামায় আছে কি না। জবাবে মমতা বলেন, সব তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে সরানো হয়েছিল, ক্ষমতা বদলাতেই নন্দিনীর হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল বিজেপি সরকার
অন্যদিকে, অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগের সত্যতা আগে খতিয়ে দেখা দরকার। কলকাতা পুলিশের আইনজীবীও আদালতে বলেন, এত বড় আকারে হিংসা হলে তার প্রমাণ থাকা উচিত।
এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সমস্ত ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আদালতে (Calcutta High Court) জমা দেওয়া হয়েছে। শুনানির শেষদিকে প্রধান বিচারপতির সামনে হাতজোড় করে মমতা বলেন, “প্লিজ স্যার, মানুষের নিরাপত্তা দিন।”













