বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) বুধবার এমন এক পারিবারিক মামলার শুনানি হল, যা শুনে চমকে উঠেছে অনেকেই। ৮২ বছরের বাবা ও ৭৯ বছরের মা তাঁদের একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন। আর সেই ছেলের শিক্ষাগত যোগ্যতা আইআইটি, আইআইএম পাস করে কর্পোরেট সংস্থার উচ্চপদে চাকরি। কিন্তু বাবা-মায়ের অভিযোগ, সন্তান হিসেবে কোনও দায়িত্বই পালন করছেন না তিনি।
উচ্চশিক্ষিত ছেলের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের
বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে ছিল এই মামলার শুনানি। কোর্টরুমে উপস্থিত ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। অন্যদিকে, বর্তমানে মুম্বইয়ে কর্মরত ছেলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতে সওয়াল করেন। ছেলের আইনজীবী এজলাসে উপস্থিত থাকলেও ছেলে নিজে সশরীরে হাজির ছিলেন না।
কী অভিযোগ বৃদ্ধ দম্পতির?
বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ, তাঁদের ছেলে ও পুত্রবধূ কেউই তাঁদের দেখাশোনা করেন না। সন্তান হিসেবে কোনও দায়িত্ব পালন করছেন না। বাবা ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মা কলকাতার এক নামী মহিলা কলেজের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। দু’জনেই অবসরপ্রাপ্ত। অন্যদিকে, কর্পোরেট সেক্টরে কর্মরত ছেলের দাবি, তাঁর মা মানসিক ভারসাম্যহীন। মিথ্যে মামলায় তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দু’পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরকে নির্দেশ দেন, আগামী ১০ মার্চের মধ্যে একজন মনস্তত্ত্ববিদ, একজন মানসিক চিকিৎসক ও একজন কাউন্সিলরের নাম আদালতে জমা দিতে হবে। তাঁদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবে আদালত (Calcutta High Court)। আগামী দিনে ওই কমিটির সামনে হাজির হতে হবে বৃদ্ধ দম্পতি ও তাঁদের ছেলেকে।

এদিন আদালতে দাখিল করা হলফনামায় ছেলের ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “বাবা-মা যেমন খারাপ হলেও ছেলেকে অস্বীকার করতে পারেন না, তেমনই ছেলেও বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না।” ছেলেকে মানবিক হওয়ার পরামর্শও দেয় আদালত (Calcutta High Court)।













