বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিহারের দ্বারভাঙা জেলার বাসিন্দা চন্দ্রামণি কুমার আজ কৃষি খাতে এক অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story) লিখেছেন। আইআইটি-জেইই পরীক্ষায় সফল না হওয়ার পর অনেকেই যেখানে হতাশ হয়ে পড়েন, সেখানে তিনি বেছে নেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ। ২০২০ সালে বন্ধু প্রিয়াংশু জৈনের সঙ্গে মাত্র ৫০,০০০ টাকার বিনিয়োগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাগ্রিজয় নামে একটি স্টার্টআপ, যার সদর দফতর দেরাদুনে। আজ সেই ছোট উদ্যোগই কয়েক বছরের মধ্যে বড় সাফল্যের মুখ দেখেছে।
চন্দ্রামণি কুমারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
ভারতের কৃষিক্ষেত্র বরাবরই আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই সমস্যাকেই সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন চন্দ্রামণি। আইআইটিতে ভর্তি হতে না পারলেও তিনি কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান। করোনা মহামারির সময়, যখন দেশজুড়ে লকডাউন চলছিল, তখনই তিনি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে একটি ছোট পলিহাউস ভাড়া করে নিজের উদ্যোগ শুরু করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল কৃষিকে একটি লাভজনক ও আধুনিক ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করা।
অ্যাগ্রিজয় মূলত পলিহাউস ও হাইড্রোপনিক খামার নির্মাণ, প্রশিক্ষণ এবং কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। সংস্থাটি স্থান বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে অটোমেশন, সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার সহায়তা এবং উৎপাদিত ফসলের বাজার সংযোগ, সবই একসঙ্গে দেয়। তাদের প্রযুক্তিতে আইওটিভিত্তিক অটোমেশন রয়েছে, যা ভারত সরকারের ভাষিণী অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে অদক্ষ শ্রমিকরাও সহজেই কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে সেচ বা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের মতো কাজ করতে পারেন।
শুরুর দিকে পরিবার ও সমাজের সমর্থন না পেলেও চন্দ্রামণি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। তাঁর প্রথম বড় সাফল্য আসে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে, যেখানে লবণাক্ত মাটিতে সফলভাবে কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর সংস্থা ভারতে ৪২টিরও বেশি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং উগান্ডা ও মালদ্বীপের তো দেশেও পরিষেবা দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার টার্নওভার প্রায় ৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: ‘এখনও আমি চেয়ারে আছি’, ভোটের সকালেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা
ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় চন্দ্রামণি আরও বড় লক্ষ্য স্থির করেছেন। তিনি চান এই প্রযুক্তি শুধু বড় বিনিয়োগকারীদের নয়, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছেও পৌঁছে দিতে। ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মসূচি ও কৃষক উৎপাদনকারী সংগঠনের মাধ্যমে তিনি সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি জৈবজ্বালানি ও সবুজ শক্তির ক্ষেত্রেও প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর সংস্থা। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা থাকলে কৃষিই হতে পারে ভারতের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ (Success Story)।












