বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে আন্দোলনের মাঝেই ২০২৯-এর ভবিষ্যদ্বাণী করে কংগ্রেসসের (Congress) উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। দিল্লিতে দফায় দফায় প্রতিবাদ কর্মসূচিও চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের আন্দোলনকে পালটা আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, ভোটে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে এসআইআরকে সামনে আনা হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিরোধীদের এই অভিযোগের বাইরেও রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। গুজরাটের পুরভোট এবং একাধিক রাজ্যের উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে শাহ দাবি করেন, দেশের মানুষ এখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখছেন।
২০২৯-এর লোকসভা ভোট নিয়ে রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী অমিত শাহের (Amit Shah)
সম্প্রতি গুজরাটের তিনটি পুরসভার নির্বাচনে বিজেপির জয়কে বিরোধীদের জন্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই তুলে ধরেছেন শাহ (Amit Shah)। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের বহু প্রার্থী সেখানে জামানতও রক্ষা করতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৫ সালের পর থেকে গুজরাটে কংগ্রেসের নির্বাচনী সাফল্য ধারাবাহিকভাবে কমেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দলটি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। শাহের প্রশ্ন, এই দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেসের নির্বাচনী ব্যর্থতার জন্যও কি এসআইআরকে দায়ী করা হবে? তাঁর মতে, নির্বাচনে বারবার পরাজয়ের কারণ খুঁজতে হলে দলের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আত্মসমীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে গুজরাটের সাম্প্রতিক ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছিলেন ক্লাসিক্যাল সিঙ্গার, হলেন IAS অফিসার! বিনা কোচিংয়েই UPSC-তে বাজিমাত পল্লবীর
শুধু গুজরাট নয়, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের উপনির্বাচনের ফলাফলের কথাও তুলে ধরেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে, অথচ কংগ্রেস কোনও উপনির্বাচনেই আসন জিততে পারেনি। নন্দীগ্রামে প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার এবং রেজিনগরে ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। শাহের মতে, এই ফলাফলগুলি বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। যদিও নির্বাচনী ফলাফলের ব্যাখ্যা নিয়ে বিজেপি ও বিরোধীদের অবস্থান এক নয়, তবু শাহ এই সাফল্যকে মোদি সরকারের প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবেই তুলে ধরেছেন।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ত্রিপুরার গ্রাম সমিতির নির্বাচনের উদাহরণও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেখানে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি ৭৭.৫ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্যালট বাক্স বা ভোটার তালিকা সংশোধনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পরাজয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। ত্রিপুরায় দীর্ঘদিন কংগ্রেসের জয় না পাওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গে দলটির নির্বাচনী দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করেন শাহ। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আত্মসমীক্ষা করা উচিত। তবে বিরোধীদের তরফে এসআইআর নিয়ে যে আপত্তি তোলা হচ্ছে, তার মূল বিষয়গুলি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও অব্যাহত।

আরও পড়ুন: মেগা পরিকল্পনা আদানির! এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভির ভোল পাল্টে হবে হাউজিং কমপ্লেক্স
এদিন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়েও বড় দাবি করেন অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর পূর্বাভাস, আগামী লোকসভা নির্বাচনেও এনডিএ ক্ষমতায় ফিরবে এবং কংগ্রেসের পরাজয়ের ধারা বজায় থাকবে। এসআইআরের বিরোধিতার আড়ালে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন তিনি। এই অভিযোগ অবশ্য শাহের রাজনৈতিক বক্তব্য; এ বিষয়ে বিরোধীদের অবস্থান আলাদা। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে আন্দোলন, নির্বাচনী ফলাফল এবং ২০২৯-এর রাজনৈতিক লড়াই—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাত আরও বাড়ছে। একদিকে বিরোধীরা এসআইআর নিয়ে নিজেদের আপত্তি জানাচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি নির্বাচনী সাফল্যকে সামনে রেখে বিরোধীদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।














