বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে বিপুল সবুজায়নের লক্ষ্যে আজ সল্টলেকের বনবিতানে থেকে ‘অরণ্য সপ্তাহ’-র (Forest Week 2026) সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার অরণ্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোট ১০ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন শুভেন্দু। উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টরমন্ত্রী অমিত শাহের গুজরাট লোকসভা কেন্দ্রের কথা।
‘অরণ্য সপ্তাহ’-র সূচনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
চলতি বছরে ১০ কোটি গাছ লাগানোর কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বললেন, ‘যদি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই বর্ষায় ২৬ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করতে পারেন, কিংবা চরম ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ যদি এই বছর তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে ১.২ কোটি গাছ লাগানোর টার্গেট নিতে পারেন তাহলে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? এই বর্ষায় আমরা তো অন্তত ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিতেই পারি।’
গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রয়োজন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ
তবে শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়।একইসাথে সেই গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করার কথাও এদিন উল্লেখ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমরা এক হাজার গাছ লাগালে তিন বছরে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০টি গাছ বাঁচাতে পারতাম। তাই, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রত্যেককে অন্তত ২ থেকে ৩ বছরের জন্য সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্বও নিতে হবে।’
আরও পড়ুনঃ আগে দেশের নিরাপত্তা, এয়ারপোর্টের ভেতরে মসজিদ বিতর্কে সাফ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী
পাশপাশি, রাজ্যজুড়ে বিপুল বনভূমি ধ্বংসের জন্য দুষতে ছাড়লেন না রাজ্যের প্রাক্তন সরকারকে। তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে আজ মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে, গাছগুলোকেও রেহাই দেয়নি।’ একইসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শুভেন্দু এদিন বললেন, ‘যখন আমরা সরকারি কাজে বা নির্বাচনের সময় বিমানে উড়ি বা হেলিকপ্টারে উঠি, তখন নীচের দৃশ্য দেখে আমরা শিউরে উঠি।’
সবটা দেখে তিনি একটাই লাইনে বলেছিলেন যে, সব তো কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে বনসৃজন, বন সংরক্ষণ এবং বন দপ্তরের পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে আজ আরও একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।













