বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে আবার নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার টাকা মেটানোর কথা বললেও, কর্মচারীদের একাংশের দাবি পুরো টাকা দেওয়া হচ্ছে না, বরং হিসেবের মধ্যে গরমিল রয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিষয়টি এখন আইনি ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বকেয়া ডিএ বিতর্ক (Dearness Allowance)
অনেকদিন ধরেই রাজ্যের কর্মচারীরা অভিযোগ করে আসছেন, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তারা ঠিকমতো ডিএ (Dearness Allowance) পাননি। এই নিয়ে আন্দোলন থেকে মামলা সবই হয়েছে। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ কোনও দয়া নয়, এটা কর্মচারীদের অধিকার। সেই অনুযায়ী বকেয়া মেটানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে এই ঘোষণার পরেও সমস্যার শেষ হয়নি। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার বকেয়া মেটানোর নামে পুরোটা দিচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, ৫০% ডিএ (Dearness Allowance) বকেয়া থাকলেও, তার মধ্যে মাত্র ২৫% দেওয়া হয়েছে। আর সেটাকেই আগের ৭৫%-এর সঙ্গে যোগ করে ১০০% দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে। বাকি ২৫% নিয়ে কোনও স্পষ্ট কথা বলা হয়নি। আরও একটি অভিযোগ উঠেছে সময় নিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে জুলাই থেকে ডিএ কার্যকর করে, সেখানে রাজ্য জানুয়ারি থেকে তা ধরছে। ফলে মাঝের ৬ মাসের টাকা কর্মচারীরা পাচ্ছেন না বলে দাবি।
পিএফ ও জিপিএফ নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকের অভিযোগ, তাদের অ্যাকাউন্টে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কম জমা পড়েছে। আবার সরকার বলেছে ৩১ মার্চের মধ্যে টাকা মেটানো হবে, কিন্তু সেই টাকা জিপিএফ-এ জমা হতে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে সুদের টাকাতেও ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই সিদ্ধান্তের সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্মচারী সংগঠনের দাবি, ভোট ঘোষণার ঠিক আগে এই ঘোষণা করা হয়েছে, তাই এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। যদিও কর্মচারীরা বলছেন, সরকারের অন্য খরচ নিয়ে আপত্তি নেই, কিন্তু নিজেদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া তারা মেনে নেবেন না।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে ফের বড় অ্যাকশন! নন্দীগ্রাম-ভবানীপুর-সহ একাধিক থানার ওসি বদলে দিল কমিশন
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্দেশ দেয় যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটাতে হবে এবং প্রথম ধাপে ২৫% টাকা ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। এরপর রাজ্য সরকার জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া এক কিস্তিতেই দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের বাজেটে ৪% ডিএ বাড়িয়ে মোট ২২% করা হয়েছে, যদিও তা এখনও কেন্দ্রের তুলনায় কম।
















