বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজনৈতিক মঞ্চে দলবদলের পর থেকেই অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Rachana Banerjee) ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর একটি মন্তব্য। টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে বলা একটি লাইন এখন কার্যত সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড।’আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে’-রচনার এই মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিস্তর চর্চা।
রচনার (Rachana Banerjee) মতো আরবানায় থাকতে কত খরচ পড়ে ?
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকেই একের পর এক পরিচিত মুখ পুরনো ঘাসফুল শিবির ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলের এই ভরাডুবির আবহে রচনাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা না থাকলে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে কেউ চিনতেন না। এই মন্তব্যের জবাব দিতে খুব বেশি সময় নেননি অভিনেত্রী-সাংসদও।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবনের সাফল্যের কথা তুলে ধরে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলা থেকে আমিই একমাত্র অভিনেত্রী যিনি মিস্টার বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছি, মিস্টার ব্যানার্জি আপনি বোধহ. জানতেন না। ৭টা ভাষায় ১৫০ ছবি করেছি, আপনি বোধহয় জানতেন না।” এরপরই তিনি বলেন, “আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে, সেই যোগ্যতা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অর্জন করেছে, কিন্তু TMC করে নয়।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মন্তব্যটি নিয়ে শুরু হয় ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট।
দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে অবস্থিত আরবানা শহরের অন্যতম অভিজাত আবাসন প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। বিলাসবহুল পরিকাঠামোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই এই কমপ্লেক্সের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে সাতটি টাওয়ার রয়েছে, পাশাপাশি আরও তিনটি টাওয়ার নির্মাণাধীন। এর মধ্যে ২ এবং ৩ নম্বর টাওয়ারকে সবচেয়ে প্রিমিয়াম বলে ধরা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটগুলির বাজারমূল্য প্রায় ১৩ থেকে ১৫ কোটি টাকার মধ্যে।

আরও পড়ুন : রাতের সফরে আর চিন্তা নেই, শিয়ালদহ-রানাঘাট লোকাল এবার চলবে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত
এই দুই টাওয়ারের একটিতেই বসবাস করেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই আবাসনে ফ্ল্যাট রয়েছে অভিনেতা দেব, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক অরিন্দম শীল, অভিনেত্রী পায়েল সরকার এবং বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ-সহ একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্বের। একটি সাক্ষাৎকারের মাত্র একটি মন্তব্য কীভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক ছাড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য। বিতর্ক এখনও থামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও নতুন মাত্রা পাচ্ছে।













