বাংলাহান্ট ডেস্ক: কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই সংক্রান্ত একটি নতুন নির্বাহী আদেশে তিনি স্বাক্ষর করেছেন, যার আওতায় কিউবাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেল বিক্রি করা দেশগুলোর পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের ভিত্তিতে জারি করা ওই আদেশে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কিউবায় তেল সরবরাহ নিয়ে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের (Donald Trump)
নির্বাহী আদেশে দাবি করা হয়েছে, কিউবা রাশিয়া, চিন ও ইরানের মতো আমেরিকার শত্রু রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনকেও নাকি কিউবা সমর্থন দিচ্ছে—এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যাল মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কিউবায় আর তেল বা অর্থ যাবে না।” হোয়াইট হাউসের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কিউবার উপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো এবং হাভানাকে নীতিগত পরিবর্তনে বাধ্য করা।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! সব মেট্রো যাবে ব্রিজি পর্যন্ত, দুর্ভোগ কমছে যাত্রীদের
এই মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেক্সিকো সাময়িকভাবে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যদিও তিনি মন্তব্য করেন, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার কোনও বাস্তব প্রয়োজন ছিল না এবং ভবিষ্যতেও কিউবার সঙ্গে সংহতি বজায় রাখবে মেক্সিকো।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের ঘটনার পর ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে মেক্সিকোই কিউবার অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কিউবার মোট তেল আমদানির প্রায় ৪৪ শতাংশ আসত মেক্সিকো থেকে, ভেনেজুয়েলা দিত ৩৩ শতাংশ এবং রাশিয়া সরবরাহ করত প্রায় ১০ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে কিউবা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছিল।

আরও পড়ুন:আগামীকালই লাস্ট ডেট, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি অর্থ দপ্তরের
তবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকেই কিউবার জ্বালানি পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেই সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে কিউবার কূটনীতিকরা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘দস্যিপনা’ চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর কিউবা বর্তমানে তার সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির জেরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও জল সরবরাহে বিঘ্ন—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।












