পক্ষপাত মানেই জেল! আরপি অ্যাক্টে বুঝিয়ে সরকারি কর্মীদের কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন

Published on:

Published on:

Election Commission warns govt staff of jail for bias
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আসন্ন ভোটকে একেবারে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে এবার কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। শুধু নজরদারি বাড়ানোই নয়, ভোটের কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীরা (Government Employee) যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি জেলও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটের লক্ষ্যে একাধিকস্তরে প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশনের (Government Employee)

নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে এবার একাধিক স্তরে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনী, স্পেশাল অবজ়ার্ভার, পুলিশ নজরদারি, এসবের পাশাপাশি ভোটের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সরকারি কর্মীদেরও (Government Employee) আইনের আওতায় এনে কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ভোটের সময় কোনও সরকারি কর্মী পক্ষপাত দেখালে তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না। এবার আরও একধাপ এগিয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোট শেষ হয়ে গেলেও যদি প্রমাণ হয় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গাফিলতি করেছেন বা কোনও পক্ষকে সাহায্য করেছেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি কঠোর শাস্তি হতে পারে।

আইন মনে করাল নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন এবার বিশেষভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (Representation of the People Act) ১২৯ নম্বর ধারার কথা। এই আইনে বলা আছে, যদি কোনও সরকারি কর্মী (Government Employee) কোনও প্রার্থী বা দলের হয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করেন, ভোট দিতে বাধা দেন বা অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা না নেন, তাহলে তাঁর ছ’মাস পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে।

আগে থেকেই অ্যাকশন, বহু আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ভোটের প্রস্তুতির আগেই ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) চলাকালীন গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। একাধিক বিএলও, ইআরও ও এইআরও স্তরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে গাফিলতির অভিযোগে কয়েকজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়েছে।

বড়সড় বদলি, প্রশাসনে কড়াকড়ি

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে বদলি করেছে কমিশন (Election Commission)। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, অনেককেই সরানো হয়েছে। কমিশনের মতে, শুধু বদলি নয়, প্রয়োজনে আইনের মাধ্যমে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই কড়াকড়ি নিয়ে অবশ্য কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একাংশ বলছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি এবং কেউ ভুল করলে শাস্তি হওয়া উচিত। অন্যদিকে, আরেক অংশের দাবি ভোটকর্মীরা (Government Employee) সাধারণত নিরপেক্ষভাবেই কাজ করেন, বরং কমিশনের দিক থেকেও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা দরকার।

বুথে নতুন নিয়ম, প্রযুক্তির ব্যবহার

ভোটের দিন প্রতিটি বুথে বাড়তি নজরদারি থাকবে। বুথের বাইরে তথ্য টাঙানো হবে, ভেতরে শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে মোবাইল থাকবে। ভোটারদেরও মোবাইল জমা রেখে ঢুকতে হবে। এছাড়া প্রতিটি বুথে এআই-চালিত ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা বসানো হবে। কোনও গোলমাল বা উত্তেজনা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে খবর যাবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Appeal process If Your Name Is Removed from SIR Supplementary List

আরও পড়ুনঃ বিস্ফোরক অভিযোগ! ভোট প্রচার থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে মমতাকে? নির্বাচন কমিশনে বিজেপির সুকান্ত-রিজিজুরা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যদি কোনও ভোটার অভিযোগ করেন এবং দায়িত্বে থাকা আধিকারিক সেটার ব্যবস্থা না নেন বা উপরে জানান না, তাহলেও সেটাকে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হিসেবে ধরা হবে। সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মী (Government Employee) শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছে কমিশন।