বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে রাস্তার ধারের খাবারের দোকান থেকে শুরু করে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। খাবার মোড়াতে বা পরিবেশন করতে খবরের কাগজ (News Paper) ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। এর ফলে সমোসা, বড়া পাও, পকোড়া, চপ, সিঙাড়া কিংবা ঝালমুড়ির মতো জনপ্রিয় খাদ্যপণ্যের বিক্রির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতিতে বদল আসতে চলেছে। সংস্থার স্পষ্ট নির্দেশ, খাদ্যদ্রব্য কোনওভাবেই সংবাদপত্রে মুড়ে বা পরিবেশন করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
খবরের কাগজে (News Food) স্ট্রিট ফুড খাওয়া নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিল FSSAI
সম্প্রতি মুম্বইয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বড়া পাও বিক্রেতা সংবাদপত্রে মুড়ে খাবার পরিবেশন করছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর FSSAI-এর পশ্চিমাঞ্চলীয় দফতর এবং মুম্বই পুরসভা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। এরপরই খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশিকাগুলিকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, খবরের কাগজে ব্যবহৃত ছাপার কালিতে সীসা, রাসায়নিক দ্রব্য এবং বিভিন্ন ভারী ধাতু থাকতে পারে। গরম বা তেলযুক্ত খাবারের সংস্পর্শে এলে সেই ক্ষতিকর উপাদান খাবারের মধ্যে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে (News Paper)।
আরও পড়ুন: ‘মিষ্টি মুখে’ বাংলার ব্র্যান্ডিং!ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছাতে বিজেপির নতুন উদ্যোগ
বিশেষজ্ঞদের আরও বক্তব্য, শুধুমাত্র রাসায়নিক দূষণই নয়, স্বাস্থ্যবিধির দিক থেকেও সংবাদপত্র খাবার মোড়ানোর জন্য উপযুক্ত নয়। ছাপাখানা, পরিবহণ ব্যবস্থা কিংবা বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ঘুরে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছায় খবরের কাগজ। ফলে এর গায়ে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য রোগজীবাণুর উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই কারণে খাদ্যের সঙ্গে সরাসরি সংবাদপত্রের সংস্পর্শ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে FSSAI। সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র খাদ্য-গ্রেড বা খাদ্যোপযোগী মোড়ক ব্যবহার করেই খাবার পরিবেশন ও প্যাকেজিং করতে হবে। এই বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার এবং রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরে কম খরচের কারণে খবরের কাগজ ব্যবহার করে আসছেন। প্লাস্টিক ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারি হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদপত্র সবচেয়ে সহজলভ্য এবং সস্তা বিকল্প হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ঝালমুড়ি, চানাচুর, ভাজাভুজি বা স্ন্যাকস বিক্রির ক্ষেত্রে খবরের কাগজের ঠোঙা এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাঁদের খাদ্যোপযোগী কাগজ বা অন্যান্য নিরাপদ প্যাকেজিং ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে হবে, যার ফলে খরচ কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। খাদ্যদ্রব্যের গুণমান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকেজিং ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে FSSAI। ফলে আগামী দিনে দেশের খাদ্য বিক্রি ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বহু দশকের পুরনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনের নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে (News paper)।













