বাংলা হান্ট ডেস্ক : গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দির (Kapil Muni Temple) সংলগ্ন উপকূলকে নিয়ে চিন্তা বেড়েছে।মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু এবং পর্যটক গঙ্গাসাগরে উপস্থিত হন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপকূল রক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরেও সমুদ্রের গ্রাস থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা যাচ্ছে না এলাকাকে। অমাবস্যা-পূর্ণিমার কোটাল থেকে বর্ষা-বছরের বিভিন্ন সময়ে ভাঙনের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আরও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্যের সরকার।
কপিলমুনি মন্দির (Kapil Muni Temple) সংলগ্ন এলাকা নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের
কপিলমুনি মন্দিরের সামনে ২০২৩ সালে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টেট্রাপড বসানো হয়েছিল। সমুদ্রের ঢেউ সরাসরি পাড়ে আছড়ে পড়ার আগে তার শক্তি কমানোই ছিল এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই উদ্যোগের পরেও ভাঙন পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে অমাবস্যা এবং পূর্ণিমার সময় জলের প্রবল তোড়ে নদীবাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সামাল দিতে মাটি ফেলে সাময়িক মেরামতি করা হয় ঠিকই, কিন্তু কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই ফের সেই অংশ ভেঙে পড়ে। ফলে বিপুল টাকা খরচ করার পরেও স্থায়ী সমাধান মেলেনা।এই পরিস্থিতির পরিবর্তনেই এবার নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
আগের সরকারের আমলেও গঙ্গাসাগরের সৈকত রক্ষার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কোনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এবার নেদারল্যান্ডস এবং আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্পের দিকে এগোচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ‘বিচ নারিশমেন্ট’ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় সৈকতের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশে প্রয়োজনীয় বালি ও পলি ফিরিয়ে এনে উপকূলের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
গঙ্গাসাগরের উপকূলে দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রবল প্রভাব রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সেই আঘাত আরও তীব্র হয়। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গঙ্গাসাগরে আসা পুণ্যার্থীরাও সমস্যায় পড়ছেন। ভাঙনের প্রকৃত কারণ এবং সমুদ্রের গতিপ্রকৃতি বুঝতে নেদারল্যান্ডস ও আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করেছেন। এবার সেই রিপোর্টের সুপারিশ মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণার স্ট্যাটাস ‘Under Process’? টাকা পেতে কি ফের আবেদন করতে হবে? জেনে নিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত কমানোই এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। ঢেউ যাতে সরাসরি সৈকতে আছড়ে পড়ার আগেই তার শক্তি নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি সৈকতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক পলি জমা না হওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মানের বালি এনে সৈকতের নির্দিষ্ট অংশে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে।













