বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়াল। শনিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের (White House) সামনেই আচমকা শুরু হয় শুটআউট। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক যুবক ব্যাগ থেকে বন্দুক বার করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ঘটনায় এক পথচারীও জখম হয়েছেন। পরে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় ওই বন্দুকবাজের। ঘটনাটি ঘটে এমন সময়, যখন হোয়াইট হাউসের ভিতরেই উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে গোটা ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ফের হোয়াইট হাউসের (White House) সামনে চলল গুলি!
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ১৭ স্ট্রিট এবং পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় এক যুবক আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা নেয় সিক্রেট সার্ভিস। তাদের গুলিতে আহত হন ওই বন্দুকবাজ। পরে তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় এক পথচলতি ব্যক্তি জখম হয়েছেন। তবে তিনি বন্দুকবাজের গুলিতে না সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
আরও পড়ুন:সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য দারুণ সুযোগ! ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্পে কী কী সুবিধা মিলবে জানুন
প্রাথমিক তদন্তে নিহত বন্দুকবাজের পরিচয় জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তার নাম নাসাইর বেস্ট। বয়স আনুমানিক ২১ বছর। কী উদ্দেশ্যে সে হোয়াইট হাউসের (White House) সামনে গুলি চালাতে শুরু করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিশানা করেই হামলার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক হয়নি এবং তাঁর কর্মসূচিতেও এই ঘটনার কোনও প্রভাব পড়েনি। ঘটনার সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভিতরেই ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
তবে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে মার্কিন নিরাপত্তা মহলে। কারণ, গত এক মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার ট্রাম্পের খুব কাছাকাছি এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটল। গত এপ্রিল মাসে হোয়াইট হাউসের একটি নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বন্দুক নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন এক যুবক। ভিড়ের মধ্যেই তিনি গুলি চালান বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন মনুমেন্ট সংলগ্ন এলাকাতেও অনুরূপ একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছিল। ফলে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শনিবারের শুটআউটের পর দ্রুত গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ, বোম্ব স্কোয়াড এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও। হোয়াইট হাউসের আশপাশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউয়ের একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা আতসবাজির শব্দ ভেবেছিলেন। পরে হুড়োহুড়ি শুরু হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিক্রেট সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন:রাজ্যের কোন কোন হাসপাতালে পাবেন আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা?- জানুন সমস্ত খুঁটিনাটি
ঘটনার তদন্তে নেমেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। বন্দুকবাজের অতীত, তার মানসিক অবস্থা, কোনও উগ্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসের (White House) মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার এত কাছে কীভাবে অস্ত্র নিয়ে পৌঁছে গেল ওই যুবক, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় বন্দুক হিংসার ঘটনা যেভাবে বেড়েছে, এই ঘটনাও তারই ভয়াবহ প্রতিফলন।













