বাংলা হান্ট ডেস্ক : ডেঙ্গি নিয়ে রাজ্যে এবার মাঠে নামছে স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যালোচনা বৈঠকের পরেই জারি হল নতুন নির্দেশিকা। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুত রোগী চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিশ্চিত করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম, পুর এলাকা থেকে জেলা—সব জায়গাতেই মশাবাহিত এই রোগ মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ করতে হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
ডেঙ্গি মোকাবিলায় নজরদারি স্বাস্থ্য দপ্তরের (Health Department)
স্বাস্থ্য দফতরের নতুন নির্দেশিকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে। কোনও এলাকায় জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে কি না, ডেঙ্গির সম্ভাব্য হটস্পট কোথায় তৈরি হচ্ছে, সেই বিষয়েও নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার পরীক্ষাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গির মরসুম শুরু হওয়ার পরেও লার্ভা ধ্বংস এবং জ্বরে আক্রান্তদের খোঁজ নেওয়ার কাজে নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্য দায়িত্বে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। চিকিৎসক ও আশাকর্মীদের একাংশের দাবি, আয়ুষ্মান ভারতের কাজ সামলাতেই তাঁদের অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। এই অভিযোগের মধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হল।
স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ অনুযায়ী, এবার থেকে আশাকর্মীদের নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীদের সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে। কারও জ্বর ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে সেই তথ্য মেডিক্যাল অফিসারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। উপসর্গ দেখে প্রয়োজনীয় রোগীদের রক্তপরীক্ষা করানোর পরামর্শও দেবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডেঙ্গি পরীক্ষার পরিকাঠামো নিয়েও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে এলিসা পরীক্ষার সুবিধা রাখতে হবে।
সরকারি ব্যবস্থায় পরীক্ষার সুযোগ না থাকলে বেসরকারি পরীক্ষাগারে বিনা খরচে অথবা স্বল্পমূল্যে ডেঙ্গি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এই কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া যাবে। আগামী ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ চলবে। প্রতিদিন কত জন জ্বরে আক্রান্তের সন্ধান মিলল এবং তাঁদের মধ্যে কত জনের ডেঙ্গি পরীক্ষা করানো হয়েছে, সেই হিসাব স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট করতে হবে।
কোনও এলাকায় ডেঙ্গি রোগীর সন্ধান মিললেই সেখানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগ সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎসস্থল খুঁজে বের করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ প্রয়োগ এবং থার্মাল ফগিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় জ্বরের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গেলে সেখানে ‘ফিভার ক্যাম্প’ চালু করতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই শিবির চালানোর নির্দেশ রয়েছে।
মেডিক্যাল অফিসার, নার্স এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। জ্বরে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গির সঙ্গে ম্যালেরিয়া পরীক্ষাও করা হবে। ডেঙ্গি রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে শুধু সিবিসি বা পিসিভি নয়, প্লেটলেটের মাত্রাও উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্লেটলেটের সংখ্যা ৫০ হাজারের নীচে নেমে গেলে স্লাইড মেথড ব্যবহার করে রিপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে। রোগীর অবস্থা এমন হলে যে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে কোনও বিলম্ব না করে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন : ঝালমুড়ি ৪০০ টাকা, চা ৯০০ টাকা! পিলে চমকানো দাম বলিউড তারকাদের রেস্তোরাঁয়
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে ডেঙ্গির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পরে তিনি জানান, গত বছর একই সময়ে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা প্রায় ৪,০০০। তাই পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্কের প্রয়োজন নেই বলে বার্তা দেন তিনি। নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর এখন নজর থাকবে বাস্তবে কতটা দ্রুত তা কার্যকর করা যায় তার উপর। বিশেষ করে বাড়ি বাড়ি জ্বরের রোগীর সন্ধান, বিনামূল্যে পরীক্ষা এবং আক্রান্ত এলাকাগুলিতে মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয়তাই ডেঙ্গি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা নিতে পারে।













