বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) চারটি দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আইনি জটিলতা কাটল না। কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে থাকা ওই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে দলীয় নেতৃত্ব। অ্যাকাউন্টগুলি ফের সচল করে সেখানে থাকা বিপুল অর্থের ব্যবহার করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি হাইকোর্ট।
ব্যাঙ্ক থেকে টাকা লেনদেন করতে পারবে তৃণমূল (Trinamool Congress)?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। দলীয় অ্যাকাউন্টগুলি চালু করার আবেদনের ক্ষেত্রে আদালত আগের একটি মামলার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান বিষয়টির তুলনা করে। বিচারপতি জানান, অন্য একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে ফ্রিজ হয়ে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে যাতে দৈনন্দিন সাংগঠনিক খরচ চালানো যায়, তার জন্য আগে বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল হাইকোর্ট। সেই ক্ষেত্রে স্পেশাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ব্যবস্থায় সম্মতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টও।
এই পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের কথা মাথায় রেখেই বর্তমান চারটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে এখনই আলাদা কোনও নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় হাইকোর্ট। অ্যাকাউন্টগুলির প্রকৃত মালিকানা কার এবং সেগুলির উপর নিয়ন্ত্রণই বা কার হাতে রয়েছে, আগে সেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লেনদেন চালুর অনুমতি দেওয়া যাবে না বলেই জানিয়েছে আদালত।
মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে এবার লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। অ্যাকাউন্টগুলির মালিকানা, সেখানে টাকা আসা-যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে প্রত্যেক পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।এমনকি রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনকে এখনও পর্যন্ত তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। দুর্গাপুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পর মামলাটি ফের শুনবে আদালত। তখন তদন্তের অগ্রগতি এবং অ্যাকাউন্টগুলির বিষয়ে নতুন করে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ কেন অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ করেছে, সেই ব্যাখ্যাও আদালতে দিয়েছে রাজ্য। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় নথিভুক্ত একটি দুর্নীতির মামলার তদন্তের সময় ওই চারটি অ্যাকাউন্টের বড় অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি রাজ্যের। জানা গেছে, দেবরাজ চক্রবর্তী একাধিক ধাপে ১০ কোটি টাকা করে জমা করেছেন। বিতর্কিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাঠানোর তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়। এছাড়া সুমিত রায়ের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ২০২৯-এ ফের বিধানসভা নির্বাচন? অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে জল্পনা তুঙ্গে
বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ যখন ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন হয়েছে তাই পুলিশ অ্যাকাউন্টগুলির আর্থিক কার্যকলাপ বন্ধ রেখেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ৮০৩ কোটি টাকার এই চারটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে আপাতত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তৃণমূলের অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটাই দেখার।













