ব্রিকসে অনুপস্থিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! আমন্ত্রণ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হতেই কী জানাল নয়াদিল্লি?

Published on:

Published on:

India clarifies its stand on the controversy over the invitation to Tarique to BRICS.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতে (India) সম্পন্ন ব্রিকস সম্মেলনে (BRICS Summit 2026) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) অনুপস্থিতি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকা ও দিল্লির বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক বিতর্ক। ঢাকার তরফে বলা হয়েছিল, ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণটি বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নয়। ফলে তিনি সম্মেলনে যোগ দেননি। এই বক্তব্যের পরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, তারেক রহমানের কাছে ভারত থেকে দু’টি আলাদা আমন্ত্রণ গিয়েছিল। একটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য।

ব্রিকসে তারেককে আমন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত (India):

বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে গিয়ে দিল্লি জানিয়েছে, তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই তাঁকে ভারত সফরের জন্য আলাদা আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। পরে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই আমন্ত্রণটি ছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে। ভারতের বক্তব্য, আঞ্চলিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ জানানোর যে প্রচলিত রীতি রয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ দু’টি আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট আলাদা ছিল (India)।

আরও পড়ুন: ২০২৯-এর লোকসভায় বুথের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১৫ লক্ষ! ভোটারের সুবিধায় বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

অন্যদিকে ঢাকার বক্তব্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সেই কারণেই ঢাকা এই সফরকে অগ্রাধিকার দেয়নি। বাংলাদেশের তরফে আরও বলা হয়েছিল, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তুলতে তারা আপাতত বহুপাক্ষিক মঞ্চের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চায়। ফলে ব্রিকসের মতো একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম সফরের বদলে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়গুলি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ঢাকার বক্তব্যে উঠে আসে।

এর মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। দীর্ঘদিন ধরেই হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের কাছে করা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি তারা চায়। পাশাপাশি, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকেও ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই বিষয়গুলির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও ঢাকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

India clarifies its stand on the controversy over the invitation to Tarique to BRICS.

আরও পড়ুন: পুরনো আঘাতের চিহ্ন সামনে এনে বড় বার্তা, কী লিখলেন অভিষেক?

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে (India) অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লির সঙ্গে তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার দাবি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অনুপস্থিতি নতুন করে দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনাকে সামনে এনেছে। তবে ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে দিল্লির সাম্প্রতিক বক্তব্যে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের দাবি অনুযায়ী, তারেক রহমানের কাছে ভারত সফর এবং ব্রিকসের আউটরিচে যোগ দেওয়ার জন্য আলাদা দু’টি আমন্ত্রণই পৌঁছেছিল।