বাংলাহান্ট ডেস্ক: বালোচিস্তানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলায় চরম চাপে পাকিস্তান (Pakistan)। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কার্যত হোঁচট খাচ্ছে ইসলামাবাদ। বালোচ লিবারেশন আর্মি দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের কাছে ‘গলার কাঁটা’। কিন্তু সেই সশস্ত্র সংগঠনের হামলার দায়ও এবার ভারতের ঘাড়ে চাপাল পাকিস্তান। শনিবার বালোচিস্তান-সহ দেশের একাধিক জেলায় হওয়া ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পর পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি দাবি করেন, ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
বালোচদের হামলার দায় চাপানোর জন্য মোক্ষম জবাব ভারতের পাকিস্তানকে (Pakistan)
পাক সরকারের এই অভিযোগের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় নয়াদিল্লি। সাউথ ব্লক থেকে জারি করা কড়া বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানের দাবি নস্যাৎ করে দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “পাকিস্তানের তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক। আমরা এই ধরনের প্রতিটি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাশাপাশি ভারতের তরফে অভিযোগ করা হয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরাতেই এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে ইসলামাবাদ।
আরও পড়ুন: ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’, অলিপাব ক্ষমা চাইতেই অভিযোগ প্রত্যাহার সায়কের
বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের উচিত অন্য দেশের দিকে আঙুল না তুলে নিজেদের ঘরের ভেতরের সমস্যাগুলির সমাধানে মন দেওয়া। নয়াদিল্লির দাবি, বালোচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে যে অস্থিরতা চলছে, তার মূল কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবহেলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সশস্ত্র দমননীতি। ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থ হলেও ইসলামাবাদ একই কৌশল অনুসরণ করে চলেছে বলে মন্তব্য কূটনৈতিক মহলের।
শনিবার একযোগে পাকিস্তানের কোয়েটা, গোদার, মাসটুঙ, নুস্কি, দালবানদিন ও পাঞ্জগুর-সহ একাধিক জেলায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। হামলার পরেই একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে বালোচ লিবারেশন আর্মি, যেখানে তারা পাকিস্তান সরকারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেয়। শেহবাজ শরিফের সরকারের ধারণা, এই হামলার নেপথ্যে বিএলএ-ই রয়েছে। এর জেরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: বারংবার ভারতবিদ্বেষী মনোভাব! বাজেটে বাংলাদেশ পেল মোক্ষম ঝটকা
হামলার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয়েছে পাকিস্তানি সেনা। পাক সেনার দাবি, শনিবার থেকেই শুরু হওয়া অভিযানে ৯২ জন সন্ত্রাসবাদীকে খতম করা হয়েছে। যদিও এই অভিযানের মধ্যেও বালোচিস্তানে অস্থিরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় এড়াতেই আবারও ভারত-বিরোধী অভিযোগকে সামনে আনছে পাকিস্তান, যা দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে।












