বাংলাহান্ট ডেস্ক: চিনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বড় উদ্যোগ ভারতের (India)। সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিতে একদেশীয় নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিল ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে এই জোটের ঘোষণাপত্রে সই করে ভারত। এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, যিনি জানিয়েছেন, এই জোট ভারতের প্রযুক্তি খাত ও যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
আমেরিকার নেতৃত্বাধীন AI জোটে এন্ট্রি নিল ভারত (India)
সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই প্রযুক্তির সরবরাহ ব্যবস্থাকে বহুমুখী করতে এবং বিশেষ করে চীনের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোট গঠন করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, প্রযুক্তিই এখন বৈশ্বিক শক্তির অন্যতম নিয়ামক, তাই সরবরাহ শৃঙ্খলের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এই জোটে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়া অংশ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: আরও বাড়বে ভারতের সামুদ্রিক শক্তি! শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে নৌবাহিনীতে সামিল হচ্ছে INS অরিদমন
জানুয়ারি মাসে মার্কিন কূটনৈতিক মহল থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে ভারতকে এই জোটে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু হল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল খনিজ, চিপ উৎপাদন এবং এআই অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করবে। কাঁচামাল সরবরাহ, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম নির্দেশ অমান্য! বেলডাঙা মামলায় কেস ডায়েরি ইস্যুতে হাই কোর্টে নতুন মোড়
চুক্তি স্বাক্ষরের পর অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ভারত ইতিমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় বিনিয়োগ করছে এবং দেশে একাধিক সেমিকন্ডাক্টর প্লান্ট তৈরি হয়েছে, যেখানে শীঘ্রই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটে যোগ দেওয়ার ফলে ভারতের বৈদ্যুতিন উৎপাদন ও উদ্ভাবনের গতি আরও বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।













