মোক্ষম ঝটকা পাবে বাংলাদেশ! ভারতের এই পদক্ষেপে সরাসরি প্রভাবিত হবে পড়শি দেশের অর্থনীতি

Published on:

Published on:

India move will directly affect economy of neighboring countries.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, ভারত (India) ২০৩০ সালের মধ্যে তার টেক্সটাইল এবং পোশাক রফতানি দ্বিগুণেরও বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যেটি বর্তমানে ৪০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অর্জনের জন্য, ভারত তার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দেশগুলিতে রফতানি দ্বিগুণ করার উপর মনোযোগ দেবে। যেটি এটি ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য থেকে শুরু করে কার্পেট, তাঁত এবং রেশমজাত পণ্যের মতো ঐতিহ্যবাহী এবং হাই-ভ্যালু সেগমেন্টকে প্রচার করবে। পাশাপাশি, এটি বর্তমানে রফতানি না করা জেলাগুলিকেও রফতানির মানচিত্রে নিয়ে আসবে। এদিকে, ভারতের এই লক্ষ্যমাত্রা সরাসরি বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল রফতানিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ওই দেশের জিডিপি এবং মোট রফতানিতে ৮০ শতাংশেররও বেশি অবদান রাখে। তাই, এই সেক্টর বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

বড় পরিকল্পনা ভারতের (India):

এদিকে, ভারতের বস্ত্র মন্ত্রক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অংশীদারদের সঙ্গে ভারতের রফতানির অংশ বর্তমান ৫.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১২ শতাংশে বৃদ্ধি করার জন্য একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করছে। এর সঙ্গে উচ্চমূল্যের পণ্যের ব্র্যান্ডিংও জোরদার করা হবে।

India move will directly affect economy of neighboring countries.

শীর্ষ ৪০ টি দেশ থেকে আমদানিতে ভারত তার অংশ বৃদ্ধি করবে: এদিকে, মন্ত্রক রফতানিতে বৈচিত্র্যকরণের কৌশল নিয়েও কাজ করছে। যার আওতায়, ভারত শীর্ষ ৪০ টি দেশ থেকে আমদানির অংশ ৪.৮ শতাংশ (বর্তমানে ২৮.৩ বিলিয়ন ডলার) থেকে দ্বিগুণ করে ১০ শতাংশ করার লক্ষ্য নিয়েছে। যা ৫৫-৬০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাবে। আমেরিকা থেকে শুরু করে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ব্রিটেনের মতো ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলি ভারতের রফতানির ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভূমিকা পালন করে। এদিকে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং শ্রীলঙ্কার মতো উদীয়মান বাজারগুলি ২০ শতাংশ অবদান রাখে।

আরও পড়ুন: কৃষক এবং গ্রামবাসীরা হবেন লাভবান! বাজেটে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র

এই প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই একজন আধিকারিকের সূত্র উদ্ধৃত করে ET তার রিপোর্টে জানিয়েছে, “আমাদের এমন পণ্যের জন্য বাজার সংযোগ প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে যার শক্তিশালী রফতানি সম্ভাবনা, সাংস্কৃতিক মূল্য এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’ পরিকল্পনা অনুসারে, রাজ্যগুলিকে নতুন রপ্তানিকারীদের বিকাশ এবং প্রথমবারের মতো রপ্তানিকারীদের সহায়তা করা, নতুন পণ্যে বৈচিত্র্য আনার এবং রফতানি বাস্তুতন্ত্রে নতুন জেলাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার দিকে মনোনিবেশ করতে বলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আর নেই চিন্তা! পেনশনভোগীদের জন্য দুর্দান্ত উপহার কেন্দ্রের, হল বড় ঘোষণা

বাংলাদেশের চিন্তা কেন বাড়বে: এদিকে, ভারতের এই পদক্ষেপ একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হবে। যেটি বাংলাদেশের চিন্তা সবচেয়ে বেশি বাড়িয়ে তুলবে। ভারত যদি তার সরবরাহ খরচ কমিয়ে বৃহৎ পরিসরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করে, তাহলে কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে। এর মধ্যে মূলত তুলো এবং সিন্থেটিক তন্তুর সহজলভ্যতা জড়িত। এর ফলে ভারত বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে। তাছাড়া, বাংলাদেশ শীঘ্রই তার স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) মর্যাদা হারাতে পারে। এর ফলে তার কর ছাড়ের অবসান ঘটবে। যেটি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।