বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিয়ের আনন্দ, আত্মীয়-স্বজনের শুভেচ্ছা আর নতুন জীবনের স্বপ্ন সবকিছুই যেন কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিণত হল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া (Georgia) অঙ্গরাজ্যে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সি যুবক ডেভ ফিজি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী জেসনি, যদিও তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন হেলিকপ্টারের পাইলটও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার জর্জিয়ার ডসনভিল এলাকায় বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন ডেভ ও জেসনি। বিয়ের অনুষ্ঠানে কয়েকশো অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতির পরিকল্পনা ছিল হেলিকপ্টারে করে বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে শহরের একটি হোটেলে রাত কাটানোর। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়।
জর্জিয়ায় (Georgia) হেলিকপ্টার ভেঙে মৃত্যু ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবকের
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর থেকেই আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। এলাকায় ঘন কুয়াশা নেমে আসে এবং বৃষ্টির কারণে দৃশ্যমানতাও অনেক কমে যায়। ডেভ নিজেও একটি বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার পাইলট ছিলেন এবং আবহাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর বাবা জর্জ ফিজির দাবি, উড়ানের আগে ডেভ খারাপ আবহাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজে কখনও উড়ান পরিচালনা করতেন না। কিন্তু নানা পরিকল্পনা ও সময়সূচির চাপে শেষ পর্যন্ত যাত্রা বাতিল করা হয়নি। নির্ধারিত সময়েই হেলিকপ্টারটি উড়ে যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডসনভিলের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পরে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন জেসনি। পরে উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে, তবে তিনি বিপন্মুক্ত।
দুর্ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিকটি সামনে এনেছেন ডেভের বাবা। তাঁর কথায়, জ্ঞান ফেরার পর জেসনি বুঝতে পারেন যে তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে রয়েছেন এবং তাঁর স্বামী ডেভ তাঁর বুকের উপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। পেশায় নার্স হওয়ায় জেসনি প্রথমে তাঁকে জাগানোর চেষ্টা করেন। বারবার ডাকাডাকি করেন, সাড়া পাওয়ার আশায় নাড়ি পরীক্ষা করেন। কিন্তু তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। ডেভের শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন। নবদম্পতির জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনটি যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: অমরত্বের খোঁজে পুতিনের মেগা মিশন! ২.৪৭ লক্ষ কোটির প্রকল্পে রাশিয়ায় শুরু বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াই
ডেভ ফিজির পরিবারের শিকড় ভারতের কেরল রাজ্যের এরনাকুলাম জেলার মুভাট্টুপুঝা এলাকায়। বহু বছর আগে তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করে। অন্যদিকে, জেসনির পারিবারিক শিকড়ও কেরলের আলাপ্পুঝা জেলায়। এই দুর্ঘটনার খবরে কেরলের দুই পরিবারেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে বিশেষ সরঞ্জাম ও যানবাহনের সাহায্য নিতে হয়েছে। ঝোপঝাড় কেটে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ইতিমধ্যেই মার্কিন পরিবহণ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনও কারণ এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে (Georgia)।













