বাংলা হান্ট ডেস্ক: ঘড়ির কাঁটা আর ট্রেনের চাকা এই দুয়ের টানাপোড়নে প্রায়শই ভারতীয় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। কখনো এক ঘন্টা, আবার কখনো পাঁচ থেকে আট ঘন্টা লেটে চলাচল করে ট্রেন (Indian Railways)। এই লেট ট্রেন চলাচল করার ফলে অসুবিধা সম্মুখীন হতে হয় বহু যাত্রীদের। তবে এবার রেলের লেটের ফলে এক ছাত্রীকে নয় লক্ষ দশ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে ভারতীয় রেলকে।
আড়াই ঘণ্টা লেট, রেলের খেসারত ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা (Indian Railways)
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার। সমৃদ্ধি সিংয়ের কাছে ২০১৮ সালের ৭ মে দিনটি ছিল স্বপ্নপূরণের দিন। কারণ, লখনৌয়ের জয়নারায়ণ পিজি কলেজে তাঁর NEET পরীক্ষা ছিল। সেদিন বস্তি থেকে লখনৌগামী ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট ট্রেনের (Indian Railways) টিকিট কেটেছিলেন তিনি। ট্রেনটির লখনৌ পৌঁছনোর কথা ছিল সকাল ১১টায়। পরীক্ষা হলে তার দুপুর সাড়ে ১২টায়। হাতে দেড় ঘণ্টা বেশি সময় নিয়েই বেরিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: লগ্নজিতা, স্নিগ্ধজিতের পর মিমি, বনগাঁয় অনুষ্ঠান করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা অভিনেত্রীর
কিন্তু সে দিন ‘সুপারফাস্ট’ ট্রেনের গতি যেন থমকে গিয়েছিল। ট্রেন যখন লখনৌ চারবাগ স্টেশনে পৌঁছয়, তখন ঘড়িতে বাজে ১টা বেজে ৩৪ মিনিট। পরীক্ষা দেওয়ার রিপোর্টিং টাইমের অনেক পরেই তিনি পৌঁছন। যার ফলে পরীক্ষা দিতে পারেননি ওই ছাত্রী। এর ফলে স্টেশনেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ছাত্রটি।
এরপর চোখের জল মুছে এর পরে রেলের কাছে জবাব চেয়েছিলেন তিনি। কেন ট্রেন দেরি করল এবং কেন তার জীবন থেকে একটা বছর হারিয়ে গেল। এই প্রশ্ন নিয়ে সমৃদ্ধি দ্বারস্থ হয়েছিলেন রেল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু কারও কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পাননি। শেষে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি জেলা উপভোক্তা কমিশনের দরজায় কড়া নাড়েন। তারপর দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলে সেই মামলা। শুনানি চলাকালীন রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেন লেট হওয়ার কথা স্বীকার করে নেয়।
সেই মামলার রায় সম্প্রতি দিয়েছে উপভোক্তা কমিশন। কমিশনের সভাপতি বিচারপতি অমরজিৎ ভার্মা এবং সদস্য অজয় প্রকাশ সিং জানান, রেলের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলে একজন শিক্ষার্থীকে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এতে তাঁর কেরিয়ারের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা অসম্ভব। যার কারণবশত, কমিশন রেলকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯ লক্ষ টাকা এবং ওই ছাত্রীর আইনি লড়াইয়ের খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আর আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই টাকা না দিলে ১২ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে রেলকে (Indian Railways)।












