বাংলা হান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে (Islamabad) ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট পাকিস্তান প্রভিন্স (আইএসপিপি), যা মূলত ইসলামিক স্টেটের পাকিস্তান শাখা হিসেবে পরিচিত। জঙ্গি সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, হামলাকারীর নাম সইফুল্লা আনসারি। শুক্রবারের ওই বিস্ফোরণের পর থেকেই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইসলামাবাদে (Islamabad) আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার ইসলামিক স্টেটের
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। বহু মানুষ আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই ঘটনাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া হ্যাঙার মেরামত করছে পাকিস্তান! সামনে এল রিপোর্ট
এই হামলার পর পাকিস্তানের পুলিশ তিন জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে, যাঁদের মধ্যে একজন মহিলা রয়েছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হামলার পিছনে বৃহত্তর জঙ্গি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলার সময় মসজিদে প্রার্থনা চলছিল বলে জানা গিয়েছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।
ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেন, আত্মঘাতী জঙ্গি আফগানিস্তান থেকে একাধিকবার পাকিস্তানে যাতায়াত করেছিল এবং এর প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। তিনি সমাজমাধ্যমে আরও অভিযোগ করেন, ভারত ও তালিবানের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে এবং ভারত সরাসরি যুদ্ধ করতে না পেরে অন্য উপায়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে—যদিও তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: গরম ভুলে যান! রাত পোহালেই দক্ষিণবঙ্গে ‘নতুন খেলা’ শুরু: আবহাওয়ার আগাম খবর
অন্যদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে ইসলামাবাদের মসজিদে বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দেন এবং বলেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় অন্যের উপর চাপানো দুঃখজনক। এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।












