ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার দিন ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে! জওয়ান সমীরণ সিংয়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ঝাড়গ্রাম

Updated on:

Updated on:

Jhargram is grief-stricken by the death of soldier Samiran Singh.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু পারলেন না ফিরতে। আসলো ভারতীয় সেনা (Indian Army) জওয়ান সমীরণ সিংয়ের (Samiran Singh) কফিনবন্দি দেহ। তাঁর বাড়ি ঝাড়গ্রাম (Jhargram) কুচলাদাঁড়ি গ্রামে।

জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ভারতীয় সেনা (Indian Army) জওয়ান ঝাড়গ্রামের (Jhargram) সমীরণ সিং (Samiran Singh)

২৪ তারিখ ফেরার কথা ছিল বাড়িতে। তিনি আসলে বাড়িতে শুরু হবে ঢালাইয়ের কাজ, কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেল।  বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলায় দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেনাবাহিনীর গাড়ি। সেই দুর্ঘটনাতেই ১০ জন সেনা জওয়ান এর মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে আছেন ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া অঞ্চলের কুচলাদাঁড়ি গ্রামের সমীরণ সিং।

সমীরণ ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রেভো কোম্পানির ১৬৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ান। বৃহস্পতিবার ডোডা জেলার খনি ভগরবাথ এলাকায় সেনাবাহিনীর গাড়ি ক্যাম্পের দিকে ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে, বিপরীত দিক থেকে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় খাদে। খাদটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর ছিল। এই দুর্ঘটনায় দশজনের মৃত্যু ছাড়াও ছয় জন গুরুতর আহত হন।

জওয়ান সমীরণ ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তিনি নতুন বাড়ি তৈরি করছিলেন। তার বাড়ির দোতলা নির্মাণের কাজ চলছিল। তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে ২৪ জানুয়ারি তিনি বাড়ি ফিরবেন। ফিরে তারপর ঢালাইয়ের কাজে হাত দেবেন। সেই মতো তিনি ভাইকে বলে আগেভাগে কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। সাঁকরাইল ব্লক প্রশাসন থেকে জানা গিয়েছে শুক্রবার এই ভারতীয় জওয়ানের দেহ বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ ছিল তাই বিমানে পাঠানো সম্ভব হয়নি এই ভারতীয় সেনা জওয়ানের মৃতদেহ।

তাঁর ভাই দিব্যেন্দু সিং সমীরণ এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ছোটবেলা থেকে সে দেশের জন্য কিছু করবে, এটাই চাইত। সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথাও বলতো। সেই ভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। ২৪ তারিখ তিনি ফিরে এলেন এটা ঠিক, কিন্তু সশরীরে আর ফিরতে পারলেন না, সব আশা থেকে গেল অপূর্ণ।

আরও পড়ুন: বেতন ও পেনশন সংশোধন পিএসজিআইসি, নাবার্ড ও আরবিআই কর্মীদের, কত বাড়ালো কেন্দ্র

এদিন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন গোপীবল্লভপুর বিধানসভার বিধায়ক ডাক্তার খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। সঙ্গে ব্লক প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও ছিলেন। ছিলেন শিক্ষা কর্মাধক্ষ্য সুমন সাহু, গোপীবল্লভপুর এর কো-অর্ডিনেটর অজিত মাহাতো। সমীরণ এর বাবা মার পাশে দাঁড়িয়ে তারা আশ্বাস দেন সমীরণের পরিবারের পাশে থাকার। সমীরণের দেহ শেষবারের মতো গ্রামের স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিয়জনকে এক ঝলক দেখার জন্য গোটা গ্রাম উপচে পড়ে। কারো হাতে ফুল, কারো চোখে জল। তাঁর মা অবিরত কেঁদে চলেছেন।

আরও পড়ুন:আরও বৃদ্ধি পাবে ভারতের নিরাপত্তা! মহাকাশে পাঠানো হবে এতগুলি মিলিটারি নজরদারি স্যাটেলাইট

Jhargram is grief-stricken by the death of soldier Samiran Singh.

বুকফাটা কান্নায় পুরো পরিবেশ শোকস্তব্ধ। দেশের ডাকে সীমান্তে যাওয়া জওয়ানের নিথর দেহ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে, কিন্তু মেনে নেওয়ার মত পরিস্থিতিতে নেই পরিবার-পরিজন ও গ্রামের মানুষ। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। শোকস্তব্ধ পুরো ঝাড়গ্রাম, বিশ্বাস করতে পারছে না কেউ, ভারত মায়ের এই বীর সন্তান চলে গেছেন।