বাংলা হান্ট ডেস্কঃ লোকসভা থেকে সাসপেন্ড তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মহিলা সাংসদদের অপমান ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছিলেন এনসিপিআই সাংসদরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীরামপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেন লোকসভার (Lok Sabha) স্পিকার ওম বিড়লা। বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে আর লোকসভায় থাকতে পারবেন না তিনি।
লোকসভা থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় | (Kalyan Banerjee)
জানা গিয়েছে, বুধবার অধিবেশনের শুরুতেই এনসিপিআই সাংসদদের (তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির) সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ। মিতালি বাগ, শতাব্দী রায়দের সঙ্গে তাঁর জোর বিবাদ হয়।
আরও পড়ুনঃ কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশন শুরু! কী কী নথি লাগছে, কীভাবে করতে হচ্ছে জানুন
সূত্রের খবর, বিদ্রোহী সাংসদদের দলবদলু বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। পাল্টা শতাব্দীরা প্রতিবাদ করলে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এমনকি ভূপেন্দ্র যাদবকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কল্যাণ। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানায় এনসিপিআই নেতৃত্ব। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার ওম বিড়লা।
জানা গিয়েছে, সাসপেনশনের পরেও বিদ্রোহীদের কটাক্ষ করেন কল্যাণ। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, “দরকার হলে বাইরে থাকব। তবে বেইমানদের সামনে মাথা নত করব না।“
কল্যাণকে সাসপেন্ড করা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল শিবির। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক। বেইমানদের রক্ষাকারীরা কল্যাণদাদের সাসপেন্ড করছেন। কল্যাণদা যা বলেছেন, যা করেছেন ঠিক করেছেন।“

এদিকে ২১ জুলাই কালীঘাট তৃণমূলের সভার পর থেকে শিরোনামে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে সভাস্থল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। এরপর সমাজমাধ্যমে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন।
এসবের রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কল্যাণ। তিনি স্পষ্ট জানান, দিদিকে ভালবাসেন। তবে তৃণমূল সুপ্রিমোকেও বুঝতে হবে। নাহলে দলটাই শেষ হয়ে যাবে। এর মাঝেই এবার লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হলেন তিনি। বিষয়টিকে কালীঘাট তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।













