‘সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা ন্যক্কারজনক হয় আমরা কী করতে পারি?’ DA মামলায় প্রশ্ন

Published on:

Published on:

dearness allowance(107)
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ডিএ ডিএ! বছরের পর বছর কেটে গেলেও ডিএ মামলার জট খুলল না এখনও। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলার (Dearness Allowance) চূড়ান্ত শুনানি শেষ হলেও রায়দান নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তরফে কোনো আপডেট নেই। এই আবহেই ডিএ মামলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়।

ডিএ মামলা নিয়ে ক্ষোভ-হতাশা কর্মীদের মধ্যে! Dearness Allowance

ডিএ মামলার রায়দান আর কবে? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মলয়বাবু বলেন, ‘এই প্রশ্ন অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমরা রোজই ভাবি যে আগামীকাল হয়তো ডিএ মামলার রায় প্রকাশ পাবে। তাই আমরা তা কজলিস্টে দেখতে পারবো। বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি রায়দান কবে হবে তা কজলিস্টে পাওয়া যায়। আমাদের আইনজীবীও বলেছে যে ওয়েবসাইটে দিয়ে দেব। পরেরদিনই থাকে। আপনারা বিমানে যদি আসতে পারেন আসবেন নয়তো আমরা তো আছিই। রায়টা বহু বড় হলে জিস্টটা শুধু পড়বে বাকিটা অনলাইনে দিয়ে দেবে।’

তিঁনি বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হল, রায়টা কবে দেবে? কর্মচারীসমাজ মারাত্মকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছে যে এত দেরি কেন করছে? আমাদেরও প্রশ্ন সেটাই। আমরা তো সবাই ভেবেছিলাম রায়টা রিজার্ভ রাখার পর রায়টা এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে প্রকাশ পেয়ে যাবে। কারণ যখন শুনানি শুরু হয়েছিল, বিচারকদ্বয় বলেছিলেন আমরা ডিএ মামলা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমরা মামলাটা শুনবো। সেই শুনে আমাদের বুকে আশা জেগেছিল। কারণ এর আগে আমাদের মাননীয় বিচারকদ্বয় শুনানি করলেও বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি।’

‘বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ যেভাবে শুনানি গুলো করেছে তার মধ্যে তৃতীয় শুনানিতে যেভাবে বলেছিল সরকারকে আগে আপনারা ৫০% ডিএ দিন। তারপর আপনাদের কথা আমরা শুনবো। রাজ্য সরকারকে পরে বলেছিল ২৫% দিন। সরকার কিন্তু মেনে নিয়েছে। কিন্তু তা দেয়নি। সরকার আবার এপ্লিকেশন করে আর আমরা কনটেম্প্ট করি। সেই নিয়ে ম্যারাথন শুনানি হয়েছে।’ বলেন মলয়বাবু।

dearness allowance(96)

হতাশা প্রকাশ করে মলয়বাবু আরও বলেন, ‘আজকে তিন মাস ২০-২১ দিন হয়ে গেছে। এখনও রায় বেরোচ্ছে না। আমরা সত্যিই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত, তাঁদের যদি ভূমিকা ন্যক্কারজনক হয় আমরা কী করতে পারি? তবুও আমরা আশা করছি যে জানুয়ারিতে আরও কিছুদিন বাকি রয়েছে। ফেব্রুয়ারী মাসে বাজেট রয়েছে। বাজেটে হয়তো দেখা যাবে বর্তমান সরকার এক কিস্তি ডিএ ছুঁড়ে দিয়েছে। একটা গাজর ঝুলিয়ে একটা বেতন কমিশন করেছে। এতে তো আমাদের সুরাহা হবে।’

আরও পড়ুন: স্বামীকে গুলি করেছিল শ্যালক, তাও অচল স্বামীর থেকে ভরণপোষণ চাইল স্ত্রী, নজরবিহীন রায় দিল হাই কোর্ট

তিঁনি বলেন, ‘আমাদের পঞ্চম বেতন কমিশনের যে বকেয়াটা যদি আমাদের এই সরকার থাকতে থাকতে আমরা আদায় করতে পারতাম আমরা সত্যি কথা বলতে আমাদের লড়াইটা সার্থক হত। কারণ সরকারের বিরুদ্ধেই তো আমাদের আন্দোলনটা লড়াইটা ছিল। এবার যদি এই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় পরবর্তী নয়া সরকার তাঁদেরও দিতে হবে তবুও আমরা আমাদের আন্দোলনের সুফলটা কতটা পাব সেই নিয়েও আমাদের চর্চা করতে হবে।’