বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল ভোটার তালিকা বিতর্ক। নাম বাদ পড়া, তালিকা ‘ফ্রিজ’ করা এবং ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা, এই সব প্রশ্ন তুলে ফের আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আরামবাগের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানালেন, প্রয়োজন হলে আবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে তাঁর দল।
ফের আদালতে যাওয়ার হুশিয়ারি মমতার (Mamata Banerjee)
আরামবাগের জনসভা থেকে এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের আবার আদালতে যাওয়া উচিত বলে তাঁর মনে হচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে এদিন মমতা (Mamata Banerjee) অসমের এনআরসি-র উদাহরণ টেনে আনেন। তাঁর দাবি, ৬ বছর আগে অসমে যে এনআরসি হয়েছিল, সেখানে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ে যায়। এর মধ্যে ১৩ লক্ষ হিন্দু বাঙালি এবং ৬ লক্ষ মুসলিম বাঙালি ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যদি মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগই না পায়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল তৈরি করার অর্থ কী? কেন এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) আরও জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষের নাম আদালতের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি নিজেও সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন বলে জানান। যদিও তাঁর দাবি, এখনও বহু মানুষের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাকি রয়েছে।
মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলে বাতিল হওয়া নামগুলিও পুনর্বিবেচনা করা হবে। কিন্তু তার আগেই কেন তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হল, তা তাঁর বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে খানিক আত্মসমালোচনার সুরও শোনা যায় তাঁর কথায়। তিনি বলেন, “আমি হয়তো বোকা হতে পারি, কিন্তু একজন আইনজীবী হিসেবে মনে হয় আমাদের আবার কোর্টে যাওয়া উচিত।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁদের দল সেই পথেই হাঁটবে।

আরও পড়ুনঃ বন্দি নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত আদালত, কী হচ্ছে জেলে? রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের
তবে এই সমস্ত বিতর্কের মধ্যেও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। ভবানীপুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকাতেই লক্ষাধিক নাম বাদ পড়েছে। তবুও এতে ফলাফলে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই তাঁর দাবি।












