বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ পদে হঠাৎ রদবদলকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই কীভাবে এই বদলি ও নিয়োগ করা হল।
কী নিয়ে আপত্তি তুললেন মমতা (Mamata Banerjee)?
অত্যন্ত বাধ্য হয়েই যে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) এই চিঠি লিখেছেন সেটা মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠির শুরুতেই উল্লেখ করেছেন। এরপর চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, কমিশনের ওই নির্দেশের মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে এবং একতরফাভাবে নতুন নিয়োগ করা হয়েছে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সচিব, পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল, ইন্সপেক্টর জেনারেল সহ রাজ্য প্রশাসনের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে।
অভিযোগ নেই, তবু বদলি কেন?
মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) দাবি, যাঁদের সরানো হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। তবুও হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, কোনও আইন লঙ্ঘন, অসদাচরণ বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ ছাড়াই এই বদলি করা হয়েছে। তাঁর মতে, কোনও জোরালো কারণ ছাড়াই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবিধান ও আইনের প্রসঙ্গ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে দেশের আইন ও সংবিধানের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০-এর ১৩সিসি ধারা ও ১৯৫১-এর ২৮এ ধারা অনুযায়ী ভোটের সময় নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত প্রশাসনিক কর্তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তবে সাধারণত এই ধরনের বদলি বা সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয় বলে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
আগে কীভাবে করা হত এই নিয়োগ
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) আরও উল্লেখ করেছেন, আগে এই ধরনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে তিনজন কর্মকর্তার একটি প্যানেল তৈরি করতে বলা হত। এরপর সেই প্যানেল থেকে একজনকে নির্বাচন কমিশন বেছে নিত। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ।
ধর্মতলার সভা থেকেও কমিশনকে আক্রমণ
শুধু চিঠিই নয়, এদিন ধর্মতলায় এক র্যালি থেকেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে তিনি বলেন, নন্দিনী একজন বাঙালি মহিলা কর্মকর্তা। তাঁকে মাঝরাতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ভোটের নির্ঘণ্টে আপত্তি, সুপ্রিম কোর্টের পথে সিপিএম
মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) দাবি, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির স্বার্থে কাজ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।












