বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার আরও কড়া ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। মূল লক্ষ্য ভোটের দিন যাতে কোনও অশান্তি, ভিড় বা অনিয়ম না হয়। সেই কারণেই বুথের আশপাশে প্রবেশের নিয়ম থেকে শুরু করে নজরদারি, সবকিছুতেই নতুন করে কড়াকড়ি আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে (Polling Booth Rule)।
বুথের চারপাশে ১০০ মিটারে সাদা দাগ টানার ভাবনা (Polling Booth Rule)
কমিশন সূত্রে খবর, এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হতে পারে। সেই জন্য সাদা চক দিয়ে একটি সীমারেখা টানা হবে বলে প্রাথমিক পরিকল্পনা। এই নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে শুধুমাত্র ভোটাররাই ঢুকতে পারবেন। ভোটের কাজে যুক্ত কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে সেখানে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারবেন কোন জায়গা থেকে বুথের নিয়ন্ত্রিত এলাকা শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলিকেও এই গণ্ডির বাইরে নিজেদের বুথ বসাতে হবে (Polling Booth Rule)।
নিরাপত্তা আরও কড়া, ভিড় রুখতেই জোর
প্রতিবারের মতো এবারও বুথের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে কড়া নিরাপত্তা থাকবে (Polling Booth Rule)। তবে এবার অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে এই সীমা চোখে পড়ার মতো করে চিহ্নিত করা হতে পারে। কমিশনের লক্ষ্য, বুথের আশপাশে অযথা জমায়েত যাতে না হয় এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
ওয়েবকাস্টিং থেকে সিসিটিভি, সবই নজরদারিতে
এই নির্বাচনে নজরদারির ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, সব বুথেই ওয়েবকাস্টিং থাকবে। কোথাও কোনও সমস্যা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা নজরে আসবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এছাড়া রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও কমিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকেই এই ক্যামেরাগুলির উপর নজর রাখা হবে বলে জানা যাচ্ছে। কোনও গোলমাল হলেই সঙ্গে সঙ্গে ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ এক ধাক্কায় বদল নিয়ম! বরাদ্দ ছাড়া আর মিলবে না টাকা, নতুন নির্দেশিকা জারি নবান্নের
শুধু নিরাপত্তা নয়, ভোটারদের সুবিধার দিকেও নজর দিচ্ছে কমিশন। প্রতিটি বুথের বাইরে মোবাইল জমা রাখার আলাদা জায়গা তৈরি করা হতে পারে, যাতে ভোট দিতে গিয়ে কোনও অসুবিধা না হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে টয়লেট ও পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে, যতটা সম্ভব বুথগুলো একতলায় রাখা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটাররা সহজে ভোট দিতে পারেন। সব মিলিয়ে, এবারের ভোটকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপের (Polling Booth Rule) পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন।
















