আদালতে এআই-নির্ভর পিটিশন নিয়ে প্রশ্ন! ভুয়ো মামলার উল্লেখে কড়া মন্তব্য ‘সুপ্রিম’ বেঞ্চের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদী বার্তা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার ব্যবহার ও সম্ভাব্য অপপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি। সোমবার রাজধানীর ভারত মণ্ডপম-এ ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই সম্মেলন ভারতের যুবসমাজের সামনে বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এবং বিশ্বমঞ্চে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারতের অগ্রযাত্রার প্রমাণ রাখবে। তাঁর বক্তব্যে এআই-কে উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে এআই (Artificial Intelligence)-নির্ভর পিটিশন নিয়ে প্রশ্ন

তবে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার শুনানির সময় এআই ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানায় বিশেষ বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিভি নাগারত্ন-র বেঞ্চে উঠে আসে যে, কিছু আইনজীবী এআইয়ের সাহায্যে পিটিশন তৈরি করছেন। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, এভাবে যত্রতত্র এআই ব্যবহার একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। বিচারপতি নাগারত্ন জানান, একটি পিটিশনে ‘মার্সি বনাম ম্যানকাইন্ড’ নামে এমন এক মামলার উল্লেখ রয়েছে, যা বাস্তবে কখনও হয়নি। বিচারপতিরা জানান, ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর নজির আদালতের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।

আরও পড়ুন: বিহার থেকে বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন, অদম্য লড়াইয়ে সাফল্যের চূড়ায় শশাঙ্ক কুমার

এই প্রেক্ষাপটে আদালতের পর্যবেক্ষণ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মতে, পিটিশন তৈরির শিল্পই এখন বিপর্যয়ের মুখে। আগে তথ্য যাচাই ও গবেষণার মাধ্যমে নথি প্রস্তুত করা হতো, কিন্তু এআই-নির্ভর খসড়া তৈরির ফলে ভুল বা অস্তিত্বহীন মামলার উল্লেখ উঠে আসছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও অন্য বেঞ্চে অনুরূপ ভুয়ো উদ্ধৃতির নজির মিলেছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হচ্ছে।

এদিকে দু’দিনের এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ঘিরেও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নিরাপত্তার কারণে প্যাভিলিয়ন খালি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, যা অনেক বিদেশি প্রতিনিধির অসন্তোষের কারণ হয়েছে। পাশাপাশি, সম্মেলন চলাকালীন দীর্ঘ সময় ওয়াই-ফাই পরিষেবা বিপর্যস্ত থাকায় ডিজিটাল লেনদেন, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। খাবার ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও একাধিক বিদেশি ডেলিগেট সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই অব্যবস্থার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।

Questions about Artificial Intelligence based petitions in the Supreme Court

আরও পড়ুন: পাইলটদের জন্য আংশিক স্বস্তি, ডিজিসিএ-র নতুন নির্দেশে শাস্তি কমল

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরও সরব হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, এই সম্মেলন ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রদর্শনী হতে পারত, কিন্তু ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় তা বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে। রাজ্যসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার সাগরিকা ঘোষ-ও সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করেন। সব মিলিয়ে, একদিকে এআই নিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন, অন্যদিকে তার অপপ্রয়োগ ও প্রশাসনিক গাফিলতি— দুই বিপরীত চিত্রই এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।