বিহার থেকে বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন, অদম্য লড়াইয়ে সাফল্যের চূড়ায় শশাঙ্ক কুমার

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিহারকে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের দরিদ্র রাজ্যগুলির মধ্যে গণ্য করা হয়। উন্নত শিক্ষা, শিল্প বা পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগের অভাবের কারণে এখান থেকে বহু মানুষ কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে পাড়ি দেন। তবু প্রতিকূলতার মধ্যেও বিহারের মানুষের মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফল (Success Story) হয়ে দেশ-বিদেশে স্বীকৃত। প্রশাসন, প্রযুক্তি, ব্যবসা— নানা ক্ষেত্রে বিহারিরা সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। সেই তালিকায় সাম্প্রতিক উদাহরণ ছাপড়ার বাসিন্দা শশাঙ্ক কুমার, যিনি ৮০ বার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরেও হাল না ছেড়ে গড়ে তুলেছেন হাজার হাজার কোটি টাকার সংস্থা।

শশাঙ্ক কুমারের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

শশাঙ্কের পরিবার শিক্ষাবান্ধব ছিল। তাঁর মা ছিলেন শিক্ষিকা এবং বাবা বিহার স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডে কর্মরত। ঝাড়খণ্ডের নেতারহাট বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ২০০৮ সালে আইআইটি দিল্লি থেকে স্নাতক হন। পরে ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা সংস্থা বিকন অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসে কাজ শুরু করেন। কিন্তু কর্পোরেট চাকরিতে সন্তুষ্টি না পেয়ে তিনি নিজের উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। বন্ধু মনীশ কুমারের সহায়তায় ২০১২ সালে কৃষকদের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন।

আরও পড়ুন: পাইলটদের জন্য আংশিক স্বস্তি, ডিজিসিএ-র নতুন নির্দেশে শাস্তি কমল

মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি প্রযুক্তি সংস্থা DeHaat। লক্ষ্য ছিল কৃষক ও কর্পোরেট বাজারের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা। বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র, ফসল সংরক্ষণ ও বিক্রির পরামর্শ— সব কিছু এক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। তবে পথ মোটেও সহজ ছিল না। সংস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে তহবিল জোগাড় করতে গিয়ে ৮০ জনেরও বেশি বিনিয়োগকারীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হন শশাঙ্ক। অনেকেই তাঁর ধারণার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

তবুও থেমে থাকেননি তিনি। সীমিত সঞ্চয়, ভাড়া করা ঘর ও অল্প সম্পদ নিয়ে শুরু হওয়া সংস্থা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষকদের সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংযোগ ঘটিয়ে আয় বৃদ্ধির পথ খুলে দেয় DeHaat। বর্তমানে সংস্থাটি ১১টি রাজ্যে কাজ করছে এবং প্রায় ১৫ লক্ষ কৃষকের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

Shashank Kumar Success Story will amaze you

আরও পড়ুন: এভারেস্টের উচ্চতায় উড়বে ‘এইচ ১২৫’, ভারতেই তৈরি হবে ফরাসি হেলিকপ্টারের ফাইনাল অ্যাসেম্বলি

প্রতিষ্ঠার এক দশকের মধ্যেই সংস্থাটির বাজার মূল্য প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একাধিক বিনিয়োগ পর্ব পেরিয়ে আজ DeHaat দেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কৃষি-প্রযুক্তি সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ৮০ বার প্রত্যাখ্যানের পরেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় সংকল্পই শশাঙ্ক কুমারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি— এমনটাই মনে করছেন শিল্প মহলের একাংশ। তাঁর গল্প আবারও প্রমাণ করল, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও মেধা ও অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য ধরা দেয়।