বাংলা হান্ট ডেস্ক : সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর (Trinamool Congress) অন্দরের অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একের পর এক নেতা প্রকাশ্যে দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দলেরই রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee)। শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি তিনি, অভিষেককে দল থেকে সরানোর দাবিও তুলেছেন। পাশাপাশি ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগের নেপথ্য কারণ নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।
কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন শুভেন্দু জানালেন রাজীব (Rajib Banerjee)?
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এ ভাঙনের ছবি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। একের পর এক বিধায়ক ও নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রতর বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, ”আমি কেন জানি না বুঝতে পারছি না যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করে যাচ্ছেন। আমি দিদিকে হাত জোর করছি যে দয়া করে আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করবেন না। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঘের বাচ্চা বানাবেন না। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করবেন না। কারণ এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই আজকে দলটার এই অবস্থা হয়েছে।”
এরপর তিনি নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য,”নির্বাচনে এই ভরাডুবির জন্য কেউ দায়ী নয়, একমাত্র একজনই দায়ী। তাঁর নাম হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ইমিডিয়েট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত বর্জন করা।” শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনাই নয়, এদিন শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুভেন্দুর মতো নেতাকে দল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তৃণমূলের জন্য বড় রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি ২০২০ সালে শুভেন্দুর দলত্যাগ নিয়েও নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই যুবর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আগে অন্য কাউকে করা হল যাতে লাইনটা পরিষ্কার করা যায়। আজকে শুভেন্দু অধিকারী, আমি তো বলব, বরঞ্চ আজকে ভাল হয়েছে শাপে বর হয়েছে। আজকে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। তাঁর যোগ্যতা ছিল, সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে।” রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : অন্ধকার করে আসছে আকাশ, আগামী দু’ঘণ্টায় ঝড়-বৃষ্টির দাপট দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায়!
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অস্থিরতা এখনও থামার কোনও লক্ষণ নেই। দলের অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসায় ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।













