বাংলা হান্ট ডেস্ক : দলের অন্দরের মতবিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে আসতেই গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের (BJP MLA) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল রাজ্য নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumdar) উদ্দেশ করে সমাজমাধ্যমে করা তাঁর একটি পোস্ট নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, ওই পোস্টে সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবার বিধায়ককে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) বিরুদ্ধে পোস্ট করে বিপাকে বিজেপি বিধায়ক
রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের পর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশেই এই শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নোটিশে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিতর্কের সূত্রপাত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি নিয়োগ নিয়ে। সম্প্রতি সরকারি কলেজগুলির গভর্নিং বডির সভাপতিদের নাম প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় বিধায়ক বা সাংসদকে এই দায়িত্ব দেওয়ার নজির থাকলেও গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন রায়ের ক্ষেত্রে তা হয়নি। পরিবর্তে বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর—দুই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই বিধায়কের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে বিজেপির অন্দরে আলোচনা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্রের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। বিপ্লব মিত্র সুকান্ত মজুমদারের প্রশংসা করেন। এরপরই সমাজমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান সত্যেন রায়। সুকান্তের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই করা সেই পোস্টে তাঁকে এবং বিপ্লব মিত্রকে একসঙ্গে আক্রমণ করা হয়। তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির একাংশের গোপন সমঝোতা রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিধায়ক।
সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সত্যেন রায় লেখেন, কালীঘাট থেকে আসা একসময়ের ‘চোর তৃণমূল’ নেতা এখন ভাল তৃণমূল সেজে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছেন। ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’- মন্তব্যেই থামেননি তিনি। বিজেপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের কথিত যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুন : বাংলা জুড়ে ৯ কোটি টাকার মেগা রাখি উৎসব, ২৫ লক্ষের বেশি রাখি বিলি করবে সরকার
তবে দলের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এই ধরনের আক্রমণকে হালকাভাবে নেয়নি বিজেপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসার পরই বিষয়টি রাজ্য শৃঙ্খলা কমিটির নজরে যায়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য সভাপতির নির্দেশে এখন বিধায়ককে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সত্যেন রায় কী জবাব দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তাঁর ব্যাখ্যায় রাজ্য নেতৃত্ব সন্তুষ্ট হয় কি না, নাকি এরপর আরও কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে বিজেপির অন্দরমহল।













