বাংলাহান্ট ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের সাধারণ পরিবারের ছেলে রোহিত কুমারের জীবনের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) আজ হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। আর্থিক অনটন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং একের পর এক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের স্বপ্ন থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে আসেননি। অবশেষে তৃতীয় প্রচেষ্টায় NEET UG 2025 পরীক্ষায় সফল হয়ে তিনি এমবিবিএস পড়ার সুযোগ অর্জন করেছেন। ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫৪৯ নম্বর পেয়ে তিনি সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক (AIR) ১২,৪৮৪ অর্জন করেন এবং পরে ঝাড়খণ্ডের অন্যতম প্রধান সরকারি মেডিকেল প্রতিষ্ঠান রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (RIMS)-এ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। এখন তাঁর লক্ষ্য একটাই, পড়াশোনা শেষ করে একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
রোহিত কুমারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
এই সাফল্যের (Success Story) পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস। রোহিত নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত জামশেদপুরের ডিএসএম স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছোটবেলা থেকেই সংসারের আর্থিক সমস্যা তাঁর জীবনের সঙ্গী ছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁকে কাজও করতে হয়েছে। কখনও ওষুধের দোকানে চাকরি করেছেন, আবার কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইল কভার বিক্রি করেছেন। তবুও তিনি পড়াশোনা ছাড়েননি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, কঠোর পরিশ্রমই একদিন তাঁকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। জীবনের কঠিন বাস্তবতাই তাঁকে আরও দৃঢ় মানসিকতার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিল।
আরও পড়ুন: DA মামলার সুপ্রিম শুনানির আগেই হাতে এল ৫০ হাজার টাকা, ধন্যবাদ জানালেন মলয় মুখোপাধ্যায়
রোহিতের এই পথচলায় সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁর বড় ভাই রাহুল সিং। ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে তিনি কাজের সন্ধানে মুম্বই চলে যান এবং রোহিতের পড়াশোনার খরচ বহনের চেষ্টা করেন। যদিও সেই পরিকল্পনা দীর্ঘদিন সফল হয়নি, তবুও দুই ভাই হাল ছাড়েননি। কোচিং করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় রোহিত ইউটিউব এবং অনলাইন পড়াশোনার উপর নির্ভর করেই NEET-এর প্রস্তুতি শুরু করেন। ২০২৩ সালে প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি ৪৮৫ নম্বর পান। পরের বছর ৬১৯ নম্বর পেলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাননি। সেই সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও শেষ পর্যন্ত আবারও নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তৃতীয় প্রচেষ্টার প্রস্তুতির সময়ও ভাগ্য তাঁর সহায় ছিল না। ২০২৫ সালের পরীক্ষার আগে তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসের বড় একটা সময় তাঁকে হাসপাতালে মায়ের পাশে কাটাতে হয়। এরপর এপ্রিল মাসে তিনি গুটিবসন্তে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ২০ দিন সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন। এত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও তিনি পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ হারাননি। সুস্থ হওয়ার পর আবার নতুন উদ্যমে বই হাতে তুলে নেন এবং পরীক্ষার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। সেই অধ্যবসায়ই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দেয়।

আরও পড়ুন: স্বাধীন ‘বালোচিস্তান’-এর দাবির পরেই পাক সেনার কনভয়ে ভয়াবহ হামলা বালোচদের, মৃত কমপক্ষে ৪৫ জওয়ান
রোহিতের জীবনকাহিনি শুধু একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি নিজেই বলেছেন, জীবনে লক্ষ্য স্থির থাকলে সাময়িক ব্যর্থতা কখনও শেষ কথা হতে পারে না। কঠিন সময়ে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থনই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। আজ তাঁর এই সাফল্য (Success Story) শুধু তাঁর পরিবারের গর্ব নয়, অসংখ্য স্বপ্নবাজ ছাত্রছাত্রীর কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা। সীমিত সামর্থ্য থাকলেও যে ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়, রোহিত কুমারের জীবন তারই বাস্তব প্রমাণ।













