BARC থেকে শুরু করে ISRO-র পরীক্ষায় সফল! UPSC-তেও বাজিমাত, চমকে দেবে IAS সুরভির কাহিনি

Published on:

Published on:

Success Story of Surabhi Gautam will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের গল্প (Success Story) মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) সাতনা জেলার আমদারা গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম অসাধারণ নারী সুরভি গৌতমের (Surabhi Gautam)। ১৯৯১ সালের ২১ অগস্ট তাঁর জন্ম। বাবা পেশায় আইনজীবী, মা শিক্ষিকা। প্রত্যন্ত গ্রামের পরিবেশেই ছোটবেলা কেটেছে তাঁর। তবে সীমিত সুযোগ কখনও তাঁর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। যে মেয়ের জন্মের দিন বড় যৌথ পরিবারে বিশেষ কোনও উৎসব হয়নি, সময়ের সঙ্গে সেই মেয়েই নিজের কৃতিত্বে পরিবার, গ্রাম এবং শেষ পর্যন্ত গোটা দেশের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর IAS হওয়ার যাত্রা তাই শুধুই একটি পরীক্ষায় সাফল্যের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করার এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি।

সুরভি গৌতমের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

পড়াশোনায় ছোটবেলা থেকেই যথেষ্ট মেধাবী ছিলেন সুরভি। গ্রামের সরকারি স্কুলে পড়ার সময় প্রায় প্রতিটি পরীক্ষাতেই ভালো ফল করতেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণির এমপি বোর্ডের পরীক্ষায় গণিতে ১০০-তে ১০০ নম্বর পাওয়ার ঘটনাটি তাঁর জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফল প্রকাশের পর তাঁর শিক্ষক তাঁকে ডেকে নিয়ে প্রশংসা করেন এবং পড়াশোনার জগতে আরও এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। একজন শিক্ষকের সেই স্বীকৃতি ছোট্ট সুরভির মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। নিজের যোগ্যতা দিয়ে আরও ভালো ফল করার ইচ্ছা তখন থেকেই যেন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। সুরভি বুঝতে শুরু করেন, পরিশ্রম করলে এবং পড়াশোনায় মন দিলে তিনিও বড় কিছু করতে পারেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: চিনের দুর্লভ খনিজের দিকে নজর ভারতের! মোদী-জিনপিং বৈঠকেই হবে বড় চুক্তি?

এরপর যত বড় হয়েছেন, পড়াশোনার প্রতি তাঁর মনোযোগও তত বেড়েছে। দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পান তিনি। ভালো ফলের কারণে উচ্চশিক্ষার দরজাও তাঁর সামনে সহজে খুলে যায়। কিন্তু গ্রামের স্কুল থেকে কলেজের পরিবেশে পৌঁছনো তাঁর কাছে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। গ্রাম্য জীবন থেকে শহুরে পরিসরে এসে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা করতে শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে তৈরি হয় বড় স্বপ্ন। শুধু একটি চাকরি পাওয়া নয়, এমন একটি জায়গায় পৌঁছনোর ইচ্ছা তৈরি হয়, যেখানে নিজের কাজের মাধ্যমে মানুষের জন্য কিছু করা যায় এবং নিজের পরিচয়ও তৈরি করা যায়।

পরবর্তী সময়ে সেই লক্ষ্য তাঁকে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দিকে নিয়ে যায়। UPSC-র মতো পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক পরিশ্রম প্রয়োজন। সুরভির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গ্রামের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে একের পর এক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ছোটবেলায় পাওয়া সেই শিক্ষকের প্রশংসা, বোর্ড পরীক্ষার ভালো ফল এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া জেদ—সবকিছু মিলিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হয় তাঁর সাফল্যের ভিত। প্রতিটি ধাপেই তিনি বুঝেছেন, বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করাটাই আসল।

Success Story of Surabhi Gautam will amaze you.

আরও পড়ুন: সামনেই ব্রিকস ও পুতিন সফর! উদ্বোধনের পর ভারতের এই বিমানবন্দরে নামল প্রথম বিদেশি সামরিক বিমান

সুরভি গৌতমের কাহিনির সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই। জীবনের শুরুটা কেমন ছিল, কোথা থেকে পথচলা শুরু হয়েছিল কিংবা চারপাশের মানুষ কতটা উৎসাহ দিয়েছিল—সাফল্য নির্ধারণ করে শুধু সেই বিষয়গুলি নয়। নিজের উপর বিশ্বাস, লক্ষ্য স্থির রাখা এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারে। আমদারার মতো ছোট গ্রামের সরকারি স্কুলের ছাত্রী থেকে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছনোর গল্প তাই আজও বহু পড়ুয়ার কাছে অনুপ্রেরণা। সুরভির যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, সুযোগ সীমিত হলেও স্বপ্নকে বড় রাখা যায়—আর সেই স্বপ্নের সঙ্গে যদি পরিশ্রম ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকে, তাহলে প্রতিকূলতাকেও সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত করা সম্ভব (Success Story)।