বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR নিয়ে রাজ্য সরকারের আপত্তিকে কার্যত খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এই প্রক্রিয়া চলবেই। নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনোভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না এবং সব রাজ্যকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
শুনানি নিয়ে রাজ্যকে করা বার্তা দিল আদালত (Supreme Court)
শুনানিতে আদালত আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন চাইলে ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বার্থে ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)-দের বদল করতেই পারে। এতে রাজ্য সরকারের কোনো আপত্তির জায়গা নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত (Supreme Court)।
রাজ্যের ৮,৫২৪ অফিসার প্রস্তুত
মামলার শুনানিতে আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৮,৫২৪ জন অফিসারকে নির্বাচন কমিশনের কাজে নিযুক্ত করার জন্য প্রস্তুত রেখেছে। মুখ্যসচিবের বক্তব্য, “কমিশন চাইলে কাল থেকেই এই সাড়ে আট হাজার অফিসার কাজ শুরু করতে পারেন।” এর উত্তরে নির্বাচন কমিশন জানায়, এত সংখ্যক অফিসারকে কাজে নামানোর আগে কমপক্ষে ১০ দিনের নিবিড় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, প্রশিক্ষণ শেষ করেই যেন দ্রুত এই অফিসাররা কাজে যোগ দেন এবং প্রক্রিয়া আর বিলম্বিত না হয়।
মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে আপত্তি খারিজ
SIR প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) এই আপত্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভাররা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। ভোটার তালিকা সংশোধনের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে ইআরও-দের হাতেই।এছাড়া স্বচ্ছতার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন চাইলে অন্য রাজ্য থেকেও মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে পারবে বলেও আদালত জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কমিশনের অভিযোগের জবাব নবান্নের, SIR নিয়ে নতুন মোড় আদালতের আগে
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা প্রতিটি রাজ্যের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই কাজে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা যাবে না বলেও আদালত কঠোর বার্তা দিয়েছে। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের আপত্তির আর কোনো আইনি ভিত্তি রইল না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












