দেশের সুরক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার! জওয়ানদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় চমক

Published on:

Published on:

The central govt has sprung a big surprise in the defence budget.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা খাতে (Defence Budget) বড়সড় বরাদ্দের ঘোষণা করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। শনিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা বাজেটের অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বাড়তি বরাদ্দ ১ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে এই বৃদ্ধির হার ১৫.৩ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা বাজেটে (Defence Budget) বড় চমক কেন্দ্রের:

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০-২৪ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার ছিল ৯.৫৩ শতাংশ। সেই তুলনায় এ বছরের বৃদ্ধি অনেকটাই বেশি। সরকারের দাবি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। বাজেটে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ ১৯ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় ২১ শতাংশেরও বেশি। সেনাবাহিনীর আধুনিক অস্ত্র, প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম কেনায় এই অর্থ ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রক।

আরও পড়ুন: আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে করেন পড়াশোনা! এখন ৯৫,০০০ কোটির কোম্পানির মালিক গিরিশ

প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতিকে সামনে রেখে এ বারের বাজেটে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিতে অভিযানের সময় বিদেশি অস্ত্রের পাশাপাশি দেশে তৈরি সমরাস্ত্রের কার্যকারিতা সামনে আসে। গত ১২ মে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন, এই অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ব্যবস্থার দক্ষতা প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রের উৎপাদন ও ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ১১ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে। আগের অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। বর্তমানে স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৬৫ শতাংশই দেশে তৈরি। আমদানির উপর নির্ভরতা আরও কমাতে আগামী দিনে এই হার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে বিমান ও বিমান ইঞ্জিন নির্মাণের জন্য আলাদা করে ৬৩,৭৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

The central govt has sprung a big surprise in the defence budget.

আরও পড়ুন: বাজেটে বাংলা বঞ্চিত নাকি লাভবান? মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বললেন…

তবে বাজেট নিয়ে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট নন প্রাক্তন সেনাকর্তাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বেতন ও পেনশন খাতে বরাদ্দ ৬.৫৩ শতাংশ বাড়িয়ে ১.৭১ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর ফলে বায়ুসেনার জন্য অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা বা স্থলসেনার প্রয়োজনীয় জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনায় অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, সামগ্রিক ভাবে এই বাজেটকে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর পথে বড় পদক্ষেপ বলেই দেখছে প্রতিরক্ষা মহল।