বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে (India-Bangladesh) তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা ভিসা পরিষেবা খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সিনিয়র কনস্যুলার অনিরুদ্ধ দাস। বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভিসা পরিষেবার স্থগিতাদেশ ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বরফ গলছে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কে
অনিরুদ্ধ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে মেডিকেল এবং ডাবল-এন্ট্রি ভিসা জারি করা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন ভিসাসহ অন্যান্য বিভাগ পুনরায় চালু করার প্রস্তুতিও চলছে। তাঁর কথায়, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং আস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং দুই দেশই সেই সম্পর্ক বজায় রাখতে দায়বদ্ধ।
আরও পড়ুন: ১০ নম্বরের প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরে থেকে! উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষায় বড় ভুল সংসদের
২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। যদিও ২০০৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দীর্ঘ সময় দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় ছিল এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা-সহ নানা ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করেছিল দুই দেশ।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর আমলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে কূটনৈতিক মহলের মত। ভারত ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য, বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে ভারত একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ভিসা পরিষেবা সীমিত করা হয়।

আরও পড়ুন: কেন ভারতে ফিরতে পারছেন না বিজয় মালিয়া? অবশেষে বোম্বে হাইকোর্টকে জানালেন কারণ
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং তাঁকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৮ অগাস্ট ২০২৪-এ প্রথম ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তা আরও বাড়ানো হয়। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহিসহ একাধিক আইভিএসি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। এখন ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর সম্ভাবনাকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

















