বাংলাহান্ট ডেস্ক: একাধিক জালিয়াতি ও অর্থপাচার মামলায় অভিযুক্ত পলাতক শিল্পপতি বিজয় মালিয়া (Vijay Mallya) আপাতত ভারতে ফিরতে পারছেন না বলে বম্বে হাইকোর্ট-কে জানিয়েছেন। বুধবার তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে দাখিল করা লিখিত বিবৃতিতে মাল্য জানান, তিনি কবে দেশে ফিরবেন তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ আইনগতভাবে যুক্তরাজ্য ছাড়ার ক্ষেত্রে তাঁর উপর একাধিক বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিজয় মালিয়া (Vijay Mallya) কেন ভারতে ফিরতে পারছেন না জানালেন হাইকোর্টকে
বিজয়ের আইনজীবী অমিত দেশাই আদালতে জানান, ২০১৬ সালে সরকারের তরফে তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে তাঁর কোনও সক্রিয় পাসপোর্ট নেই। পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি দেশ ছাড়তে বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি রাখতেও পারেন না। এই পরিস্থিতিতে ভারতে ফেরার নির্দিষ্ট সময় জানানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই আদালতে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রমজানের চাঁদার আড়ালে জঙ্গিদের অর্থসাহায্য? ভূস্বর্গে অভিযান শুরু যৌথ বাহিনীর
গত সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর ও বিচারপতি গৌতম আঙ্খাডের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, বিজয় দেশে না ফিরলে তাঁকে ‘ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার’ ঘোষণা করার নির্দেশের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন শোনা হবে না। আদালত তখন জানতে চেয়েছিল, বিজয়ের দেশে ফেরার ইচ্ছা আছে কি না এবং থাকলে তিনি কবে ফিরবেন। সেই প্রশ্নের জবাব হিসেবেই বুধবার তাঁর তরফে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়া হয়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ৭০ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী হাইকোর্টে দু’টি আবেদন করেছেন। প্রথমটি তাঁকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী ঘোষণার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবং দ্বিতীয়টি ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাঁর পক্ষের আইনজীবীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াও এই আবেদনের শুনানি সম্ভব।

আরও পড়ুন: হাজার হাজার ভক্ত পাবেন বিনামূল্যে প্রসাদ! এই মন্দিরে ২৭.৫ কোটি টাকা দান করলেন অনন্ত আম্বানি
আইনজীবীর যুক্তি, আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হলে আগের নির্দেশ কার্যকর থাকে না। অর্থাৎ মালিয়া যদি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন, তবে বর্তমান মামলাগুলির প্রাসঙ্গিকতা বদলে যেতে পারে। এদিকে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে বিজয়ের বিবৃতির জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে।

















