রমজানের চাঁদার আড়ালে জঙ্গিদের অর্থসাহায্য? ভূস্বর্গে অভিযান শুরু যৌথ বাহিনীর

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রমজান মাসকে সামনে রেখে জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) জঙ্গি কার্যকলাপের অর্থ জোগানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পবিত্র এই মাসে ঘরে ঘরে গিয়ে চাঁদা তোলার আড়ালে জঙ্গিদের আর্থিক সহায়তা জোগাড়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই আশঙ্কা থেকেই উপত্যকা জুড়ে আবারও তল্লাশি ও নজরদারি অভিযান জোরদার করেছে যৌথ বাহিনী।

জঙ্গিদের অর্থ জোগান রুখতে জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) বড় অভিযান

গত কয়েক মাস ধরেই উপত্যকায় জইশ জঙ্গিদের খোঁজে ধারাবাহিক সেনা অভিযান চলছে। নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে গোয়েন্দাদের অনুমান, এখনও বেশ কয়েক জন জঙ্গি বিভিন্ন এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে এবং সুযোগ পেলেই সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে। এই পালানোর জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বিকল্প উপায়ে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: “অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়ব না”, ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা অনিল আম্বানির

এই পরিস্থিতিতে কিস্তওয়ারের জেলাশাসক পঙ্কজ কুমার শর্মা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন ঘরে ঘরে চাঁদা তুলতে পারবে না। বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ফিল্ড অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা চাঁদা তুলতে যাচ্ছেন তাঁদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করতে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলিতে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে সম্প্রতি উপত্যকায় বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাচারচক্রের একটি বড় নেটওয়ার্কের হদিস মিলেছে। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, এই ধরনের অ্যাকাউন্ট আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাইবার প্রতারণার পাশাপাশি জঙ্গিগোষ্ঠী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিও দেশবিরোধী কার্যকলাপে অর্থ জোগাতে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Major operation in Jammu and Kashmir to stop funding of terrorists.

আরও পড়ুন: নিরামিষের দিনে বাড়িতে অতিথি এসেছে! মুখে হাসি ফোটাতে বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু ঝিঙের ভর্তা

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় ৮০০০ বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলি ইতিমধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, অপরাধের অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করতে এই অ্যাকাউন্টগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, ফলে এগুলি অপরাধচক্রের সবচেয়ে দুর্বল অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রমজানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অর্থসংগ্রহ রুখতে তাই প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী সমন্বিতভাবে নজরদারি আরও কঠোর করেছে।