বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান (Pakistan) ক্রমশ গভীরতর মানবসম্পদ সঙ্কটের মুখোমুখি। দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্প্রতি দেশত্যাগকে ‘ব্রেন গেন’ বা মেধা লাভ হিসেবে বর্ণনা করলেও, সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। অত্যন্ত উচ্চ হারে দক্ষ পেশাদাররা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
পাকিস্তান (Pakistan) ছেড়ে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার:
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দুই বছরে প্রায় ৫,০০০ চিকিৎসক, ১১,০০০ ইঞ্জিনিয়ার এবং ১৩,০০০ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এই ব্যাপক মেধা পাচার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের আমলের গভীর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটকেই প্রতিফলিত করছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই প্রবণতার দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে আরও ৩ ডিগ্রি নামবে তাপমাত্রা! শীতের দাপট কবে কমবে? দিনক্ষণ জানাল আবহাওয়া দপ্তর
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রাক্তন সেনেটর মুস্তাফা নওয়াজ খোখার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, অর্থনীতি ঠিক করতে গেলে আগে রাজনীতিকে স্থিতিশীল করা জরুরি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পাকিস্তান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং হাব হওয়া সত্ত্বেও ঘনঘন ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কারণে দেশটির প্রায় ১.৬২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে ২৩ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার তাদের কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ৭ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৮১ জন পাকিস্তানি বিদেশে চাকরির জন্য দেশ ত্যাগ করেছিলেন। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৪৬-এ পৌঁছেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দেশত্যাগ এখন আর কেবলমাত্র নিম্ন-দক্ষ শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষিত পেশাদাররাও ভবিষ্যৎহীনতার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ধনকুবের হয়েও সাধারণ জীবন! অবলীলায় দান করেছেন ৬,২১০ কোটি, চমকে দেবে ত্যাগরাজনের কাহিনি
এই সংকটের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে তীব্র জলসংকট। পাকিস্তান ভারত থেকে প্রবাহিত ঝিলম ও চন্দ্রভাগা (নীলম) নদীর জলের প্রবাহ হ্রাসের অভিযোগ তুলেছে এবং দাবি করেছে যে এর ফলে কৃষি খাত মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের এই বহুমুখী সংকট পাকিস্তানকে একটি অত্যন্ত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা দেশটির সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।












