বাংলাহান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে রাজধানী দিল্লির (Delhi Protest) নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করতে চাইছে না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)। দুর্গাপুজো, নবরাত্রি ও দশেরার মতো একাধিক উৎসবের কথা মাথায় রেখে বিরোধীদের আন্দোলন আপাতত দিল্লি (Delhi) থেকে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও রাজধানীতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি বহাল থাকছে। দিল্লি পুলিশের অনুরোধে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত ২৭ হাজার আধাসেনা মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আচমকা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে না এলে সিদ্ধান্তের সমস্ত দিক নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
আন্দোলনের (Delhi Protest) আবহে উৎসবের দিনগুলিতে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা!
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লিতে নিজের বাসভবনে বিরোধী নেতাদের নিয়ে চা-চক্রের আয়োজন করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেখানেই উৎসবের দিনগুলিতে প্রত্যেককে নিজের নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি বলে খবর। এর ফলে নেতারা পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটানোর সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি রাজ্যস্তরেও সরকারবিরোধী কর্মসূচি জারি রাখা সম্ভব হবে। তবে প্রয়োজন পড়লে দ্রুত দিল্লিতে ফিরে আসার জন্যও বিরোধী নেতাদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন রাহুল, এমনটাই জানা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের মধ্যেও রাজধানীতে নতুন করে কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসনের একাংশ। যদিও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিরোধীদের তরফে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে (Delhi Protest)।
আরও পড়ুন: ২০২৯-এও মিলবে পরাজয়! রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী অমিত শাহের
দিল্লির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ গত ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর অভিযান। সিজেপি-সহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়ায়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না মেলায় আন্দোলনকারীদের একাংশ দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সংঘাতের ঘটনাও সামনে আসে। ফলে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও গোটা রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছে প্রশাসন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ৫০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৭ হাজার ছিলেন বিভিন্ন আধাসেনা বাহিনীর জওয়ান। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য থেকে দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের রাজধানীতে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এত বিপুল বাহিনী মোতায়েনের পরেও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি প্রশাসনের নজরে আসে। তাই ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়, সেই লক্ষ্যেই অতিরিক্ত বাহিনী আপাতত দিল্লিতে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। উৎসবের সময় জনসমাগম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি—দুই দিক বিবেচনা করেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের! কোন মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের?
দিল্লি পুলিশের তরফে অতিরিক্ত আধাসেনা মোতায়েন রাখার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাতে সম্মতি দিয়েছে বলে খবর। সেই অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীতে বাড়তি ২৭ হাজার আধাসেনা বহাল থাকার কথা। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আপাতত বিরোধীরা রাজ্যগুলিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও দিল্লি পুলিশের সতর্কতায় কোনও ঘাটতি রাখতে চাইছে না কেন্দ্র। রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে ফের উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনের (Delhi Protest)।














