বাংলা হান্ট ডেস্ক: বুধবার সাত সকালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দেয়। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার সময় আচমকাই একটি চার্টার্ড বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাণ হারান সেই বিমানেই উপস্থিত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar Plane Crash) সহ আরও ৬ জন। সেই বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এবার বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানের শেষ কথোপকথন জনসমক্ষে আনা হয়েছে। তাতে জানা গেছে, বিমানটি বারামতী বিমানবন্দরে নামার সময় পাইলটরা রানওয়ে স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি, যদিও পরে তারা রানওয়ে দেখার কথা জানান। তারপরই বিমানটি ভেঙে পড়ে।
দুর্ঘটনার আগে কী জানিয়েছিলেন অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar Plane Crash) বিমানের পাইলট?
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে বিমানটি প্রথমবারের মতো বারামতী বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিছুক্ষণ পর, বিমানবন্দর থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা অবস্থায় পাইলটদের ‘ভিজুয়াল মিটিওরলজিকাল কন্ডিশনে’ নামার পরামর্শ দেওয়া হয়, অর্থাৎ যন্ত্রের পরিবর্তে চোখে দেখে আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতা যাচাই করে অবতরণ করতে বলা হয়। এ সময় পাইলট বাতাসের গতি ও দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চাইলে, তাকে স্বাভাবিক গতি ও প্রায় ৩০০০ মিটার দৃশ্যমানতার কথা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে রাজ্যের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য! খোয়া গেল ৩৫ লক্ষ
এরপর বিমানটি বারামতী বিমানবন্দরের ১১ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করে। কিন্তু পাইলটরা রানওয়ে দেখতে না পেয়ে বিমানটিকে আকাশে একটি চক্কর কাটান। দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টার সময়ও এটিসি জিজ্ঞাসা করলে পাইলট জানান, ‘রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না, দেখা গেলে জানাব।’ মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই ককপিট থেকে রানওয়ে দেখা যাওয়ার তথ্য জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু বলেছেন, বিমানটি অবতরণের সময় হয়তো দৃশ্যমানতা কম ছিল। তবে ককপিটে কে কথা বলছিলেন, তা কেন্দ্রের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি। পাইলট-ইন-কমান্ড ছিলেন অভিজ্ঞ সুমিত কুমার, যাঁর ১৫ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল। সহ-পাইলট ছিলেন শম্ভবী পাঠক, যাঁর অভিজ্ঞতা ১৫০০ ঘণ্টা।

আরও পড়ুন: SIR এর পরেই শুরু জনগণনা, বাড়িতে বসে মোবাইলেই হবে ফর্ম ফিল আপ, জেনে রাখুন পদ্ধতি
সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটিকে অবতরণের চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, ককপিট থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এর মাত্র এক মিনিট পর, ৮টা ৪৪ মিনিটে রানওয়ের পাশে আগুন দেখা যায় এবং বিমানটি ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রীসহ ছয়জন নিহত হন। এখনও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।












