বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশে খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে জনগণনার (Census 2026) কাজ, যার মাধ্যমে দেশের বর্তমান জনসংখ্যার পাশাপাশি নারী-পুরুষের অনুপাতেরও একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে আসবে। এই সমীক্ষার ফলাফলকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর। এই আইন কার্যকর হলে লোকসভা এবং রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
জনগণনার (Census 2026) পরেই সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ আইন কার্যকর করবে কেন্দ্র?
যদিও একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সরকার নতুন জনগণনা ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই আইনের বাস্তবায়ন দ্রুত সম্ভব হতে পারে এবং দেশের রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: রেশনে মিলছে কম সামগ্রী? বাড়িতে বসেই সরাসরি সরকারের কাছে জানান অভিযোগ, রইল পদ্ধতি
সূত্রের মতে, এই আইন বাস্তবায়িত হলে সংসদের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮১৬-তেও পৌঁছতে পারে, যার মধ্যে প্রায় ২৭৩ টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যদিও মূল আইনে উল্লেখ ছিল যে নতুন করে জনগণনা এবং আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে, কিন্তু সেই শর্ত শিথিল করার সম্ভাবনাও এখন জোরালো হচ্ছে।
২০২৩ সালে পাশ হওয়া এই আইন এখনও কার্যকর হয়নি মূলত ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে এগোয়, তাহলে এটি একটি বড় রাজনৈতিক এবং কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: অল্প বয়সেই শিশু-কিশোরদের মগজধোলাই! পাকিস্তানে জিহাদি তৈরির লক্ষ্যে স্কুল খুলল লস্কর-জৈশ
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৮(২) অনুযায়ী, সংশোধনী পাশ করাতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলির সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই মল্লিকার্জুন খার্গে এই বিষয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন এবং কিরেণ রিজিজুর কাছে আলোচনার আবেদন করেছেন, যা আগামী দিনে এই ইস্যুকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিতে পারে (Census 2026)।












