বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, চিন-পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির অর্থ দিয়েই দেশটির আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে ইসলামাবাদ। গত বছর মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর পর থেকে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে বলে তিনি জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এত বেশি অর্ডার আসছে যে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই আইএমএফ-এর উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
ঋণ মেটাতে এবার যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চায় পাকিস্তান (Pakistan)
এই দাবির পটভূমিতে রয়েছে পাকিস্তানের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট। রাষ্ট্রীয় বিমানসংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ)-কে বেসরকারীকরণের মতো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কড়া শর্ত মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছে দেশটি। এমনকি সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বকেয়া ঋণও রয়েছে পাকিস্তানের। আসিফের বক্তব্য অনুসারে, যুদ্ধবিমান বিক্রি করেই এসব ঋণ শোধ করা যেতে পারে এবং নতুন করে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আরও পড়ুন: আর্থিক সঙ্কট ও বিয়ের চাপকে দূরে সরিয়ে রেখেই স্বপ্নপূরণ শিবানীর! ডেপুটি কালেক্টর হয়ে গড়লেন নজির
এদিকে, সামরিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা লক্ষণীয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে জেএফ-১৭ বিমান ক্রয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে খবর রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান জেএফ-১৭ বিক্রির জন্য ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। একজন প্রাক্তন পাকিস্তানি এয়ার মার্শাল দাবি করেছেন, অন্তত ছয়টি দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে দেখছেন। তাঁদের মতে, ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে পাওয়া ৭০০ কোটি ডলারের ঋণের চাপ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বেসরকারীকরণের মতো কঠোর সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া পাকিস্তানের পক্ষে শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক সংকট কাটানো অত্যন্ত কঠিন, যদি না সম্ভাব্য ক্রেতারা তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল অগ্রিম অর্থ প্রদান করে।

আরও পড়ুন:দাম বেড়েছে ৫৮০ শতাংশ! শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে ১৬ টাকার এই পেনি স্টক
অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই অস্ত্র রপ্তানি উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা গতিশীলতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, বাংলাদেশের মতো ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিরক্ষা প্রতিযোগিতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীদের জন্য নতুন চিন্তার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।













