পরিকল্পিত ‘স্লো পয়জনিংয়ে’ মৃত্যু খালেদা জিয়ার? নেপথ্যে শেখ হাসিনা? উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Published on:

Published on:

Was the death of Khaleda Zia caused by planned slow position?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) চিকিৎসা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। ভুল ওষুধের প্রয়োগ তাঁর লিভারকে ধ্বংস করে দেয়, যা কার্যত ধীরগতির বিষক্রিয়ার মতো কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর এই অভিযোগের তির তিনি ছুঁড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে।

পরিকল্পিত ‘স্লো পয়জনিংয়ে’ মৃত্যু খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia)?

ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, ২০২১ সালের এপ্রিলে কোভিড-১৯–সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বেগম জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ এর আগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাড়পত্র অনুযায়ী রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের জন্য তাঁকে নিয়মিত ‘মিথোট্রেক্সেট’ নামের একটি ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল, যা ভর্তি অবস্থাতেও চালু ছিল। বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ওই ওষুধ বন্ধ করা হয়।

আরও পড়ুন: জরুরি কাজে আটকে পড়েছেন, শুনানির দিন হাজিরা দিতে না পারলে কী হবে?

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ছিল এবং এই অবস্থায় ‘মিথোট্রেক্সেট’ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়ম অনুযায়ী এই ওষুধ গ্রহণের সময় নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাফি করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ আসার পরও তৎকালীন সরকারনির্ধারিত চিকিৎসকেরা ওষুধ বন্ধ করেননি, এমনকি একটি আলট্রাসনোগ্রামও করাননি। ডা. সিদ্দিকীর দাবি, আস্থার অভাবে বেগম জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে না চাইলে তাঁর বিশ্বাসযোগ্য চিকিৎসকের মাধ্যমে বেডসাইডেই তা করা যেত।

অনেকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিথোট্রেক্সেটই ছিল সেই ওষুধ, যা বেগম জিয়ার ফ্যাটি লিভার রোগকে দ্রুত সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এটি তাঁর লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে। তাঁর মতে, চিকিৎসায় এই চরম অবহেলা লিভারের দ্রুত অবনতির মাধ্যমে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা ইচ্ছাকৃত অবহেলার শামিল এবং অমার্জনীয় অপরাধ।

Was the death of Khaleda Zia caused by planned slow position?

আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিক তৃতীয় সেমেস্টারে সাপ্লিমেন্টারি! পরীক্ষায় বসবে প্রায় ২,৫০০ পড়ুয়া

ডা. এফ এম সিদ্দিকী আরও বলেন, বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসাতেও অবহেলার প্রমাণ মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান, যেখানে সরকার গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের যোগ্যতা, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, ভর্তিকালীন চিকিৎসকদের ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক অন্তর্ভুক্তিতে বাধার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএমইউর সব চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি জব্দ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া।