আজ, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাস ধরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকার পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026)। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম দেশের ভোটে অনুপস্থিত দুই প্রভাবশালী নেত্রী—শেখ হাসিনা দেশছাড়া এবং খালেদা জিয়া প্রয়াত। ফলে ‘বেগমদের লড়াই’ ছাড়া এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনই সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট—এই ‘টুইন ব্যালট’ প্রক্রিয়া ভোটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026)?
প্রায় ১২ কোটি ৭০ লক্ষ ভোটার ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ৩০০টি আসনের প্রতিনিধিদের বেছে নিচ্ছেন। এ বারের ভোটে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর তরুণ প্রজন্ম। প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ, অর্থাৎ মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সি। শুধু ভোটার নয়, প্রার্থীদের মধ্যেও নতুন মুখের আধিক্য। মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১,৫১৮ জনই প্রথমবার নির্বাচনে লড়ছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের ২৭ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে।
আরও পড়ুন: একটু ভুলেই বাতিল হতে পারে আপনার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সমস্যায় পড়ার আগে করুন এই ছোট্ট কাজ
গত দেড় দশকের আওয়ামী লিগের একচেটিয়া আধিপত্য এ বার নেই। দলটি নিষিদ্ধ থাকায় ভোটে অংশ নিচ্ছে না। ফলে রাজনৈতিক ময়দান উন্মুক্ত। মূল লড়াই বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামি-সহ ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র মধ্যে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ১০ দলের জোট নিয়ে ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত ১১ দলের জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এনসিপি তরুণ ভোটারদের টানার চেষ্টা করছে, যদিও নেতৃত্বে ভাঙন তাদের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছে।
এই নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, চিন ও আমেরিকার প্রভাব এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা—সবই নজরে রয়েছে। অতীতে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে নির্বাচনের আগে তারেক রহমান এবং শফিকুর রহমান উভয়েই ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার বার্তা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শহরে পরিবহণে সবুজ সংযোজন, সমীক্ষার ভিত্তিতে ২৫টি সিএনজি বাস নামছে রাস্তায়
ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টেয়। তার পরপরই শুরু হবে গণনা, যা সারা রাত চলতে পারে। শুক্রবার সকাল বা দুপুরের মধ্যে অধিকাংশ ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে ধারণা। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাদের সামনে থাকবে অর্থনীতি পুনর্গঠন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।













