ব্রাজিলের তিনটি দুর্বলতা প্রথম ম্যাচেই স্পষ্ট দেখিয়ে দিলো মরক্কো! কৌশল না বদলালে ঘটবে বড় বিপদ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ নেইমারের (Neymar) অনুপস্থিতিতে ব্রাজিল (Brazil) নিজেদের বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) প্রথম ম্যাচে কেমন পারফরম্যান্স করে সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। কিন্তু গোটা বিশ্বের ভক্তদের হতাশ করেছে আনসেলত্তির (Carlo Ancelotti) ছেলেরা। গোটা ম্যাচে ভিনিসিয়স জুনিয়রের (Vinicius Junior) অসাধারণ গোল এবং শেষমুহূর্তে অ্যালিশনের দুরন্ত দুটি সেভ ছাড়া মরক্কোর বিরুদ্ধে (Brazil vs Morocco) ভক্তদের দেখার মতো কিছুই ছিল না ম্যাচে। প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের রণনীতির ফাঁকফোকরগুলো সকলের সামনে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে দিলো মরক্কো!

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের মাঝমাঠ ছিল সম্পূর্ণ ছন্নছাড়া। ফলস্বরুপ প্রতি আক্রমণে ভরসা রাখতে হচ্ছিলো কোচ কার্লো আনসেলোত্তিকে। তাও ব্রাজিলের ফুটবলারদের শুরুটা ছিল বিশৃঙ্খল ও পরিকল্পনাহীন। নিজেদের মধ্যে টানা ৪টি পাস খেলতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন ব্রাজিলের ফুটবলাররা। ফলস্বরূপ প্রথম ৩০ মিনিটে মরক্কোর প্রেসের মুখে প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সেলেসাওরা। সাইবাড়ির গোলে ২১ মিনিটের মধ্যেই পিছিয়ে পড়তে হয় তাদের।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে হতশ্রী ফুটবল নেইমারহীন ব্রাজিলের! ভিনিসিয়সের দুর্দান্ত গোলে হার বাঁচালো ৫ বারের বিজয়ীরা

তবে ভিনিসিয়স জুনিয়রের ব্যক্তিগত দক্ষতায় সম্মানরক্ষা করে ব্রাজিল। তার দুরন্ত গোলে ১-১ ফলে ম্যাচ শেষ হয়। ম্যাচের সেরার পুরস্কারও উঠে ভিনির হাতে। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য দুটি গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন ভিনিসিয়স। কিন্তু রাফিনহা, থিয়াগো-রা সেই সুযোগগুলি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

ম্যাচ বিশ্লেষণে করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিলের তিনটি বড় দুর্বলতা। আর সেই জায়গাগুলি হল:

১. মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতার অভাব: নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মাঝমাঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার কেউ নেই। ব্রুনো গুইমারেস সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ। ক্যাসেমিরো বা ফ্যাবিনহো বিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে সম্ভব হলেও আক্রমণ গঠনে ব্যর্থ। ফলে উইঙ্গারদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই ইতিহাস! আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বড় রেকর্ড গড়তে চলেছেন মেসি

২. ডান প্রান্তে স্পেশালিস্ট ফুলব্যাক না থাকা: এদিন ড্যানিলোর বদলে তরুণ ইবানেজকে ডান প্রান্তের উইং ব্যাক হিসেবে শুরু করান কার্লো, যিনি মূলত একজন সেন্টার ব্যাক। কিন্তু তিনি এই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হন। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ৪৬ মিনিটেই ৩৪ বছরের ড্যানিলোকে ফেরত আনতে বাধ্য হন কোচ। তারপরেও ব্রাজিল ওই প্রান্তে শৃঙ্খলা খুঁজে পায়নি। ব্রাজিলের আক্রমণের বেশিরভাগটাই সংগঠিত হয়েছে বাঁ প্রান্ত অর্থাৎ ভিনিসিয়সের দিক দিকে।

৩. ডিফেন্সিভ ভুল ও বোঝাপড়ার ঘাটতি: এদিন ব্রাজিলের দুই প্রধান সেন্টার ব্যাক মার্কুইনস এবং গ্যাব্রিয়েলের মধ্যে বোঝাপড়ার চূড়ান্ত অভাব দেখা গিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই গোল করে যান মরক্কোর সাইবারি। অনেক ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ মনে করছেন মরক্কোর বদলে অন্য কোনও হাইপ্রোফাইল দেশ হলে ব্রাজিলের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আরো দুটি গোল করে যেতে পারতো। ব্রাজিল বিশ্বকাপের দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে চাইলে এই সমস্যা দূর করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।