বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই বাংলায় ফের ভোটের দামামা। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে (By Election) ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিরোধী শিবিরগুলির তুলনায় প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে বিজেপি। ফলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কৌতূহল, গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে দুই কেন্দ্রে কারা লড়াইয়ে নামবেন।এর মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)।
উপনির্বাচনে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন সজল (Sajal Ghosh)
নন্দীগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে বরাবরই রাজ্য রাজনীতিতে আলাদা আগ্রহ রয়েছে। এরই মধ্যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, উপনির্বাচনে নিজেই প্রার্থী হতে পারেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই জল্পনাকে জোরদার করার মতো কোনও পদক্ষেপ এখনও তৃণমূলের তরফে সামনে আসেনি। প্রার্থী নিয়ে কালীঘাটের সংগঠনেও প্রকাশ্যে কোনও তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের পরিস্থিতিও খুব একটা আলাদা নয়। দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও বাকি থাকায় উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়নি। বিজেপি অবশ্য নন্দীগ্রামকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না। ইতিমধ্যেই সেখানে দলের সাংগঠনিক স্তরে বৈঠক হয়ে গিয়েছে। দলের প্রস্তুতির পাশাপাশি ভোটের ফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের এক কর্মসূচিতে তিনি দাবি করেছেন, আসন্ন উপনির্বাচনেও বড় ব্যবধানে বিজেপির জয় হবে।
এখন নজর প্রার্থী ঘোষণার দিকে। নন্দীগ্রামে স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্য থেকেই কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল ছাড়াও জেলা সহ-সভাপতি অঞ্জন ভারতী এবং প্রলয় পালের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে।
জানা যাচ্ছে, রাজ্য বিজেপি ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য নামের তালিকা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছে। রাজ্য স্তরের বাছাইপর্ব শেষ হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগরেও একই ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এর মধ্যেই উপনির্বাচন নিয়ে আক্রমণাত্মক বার্তা দিয়েছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ভোটে নামলে তাঁকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই জায়গাতেই লড়াই করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। এমনকি তৃণমূলনেত্রীর পরিবর্তে তাঁর ভাইপোকে প্রার্থী করার কথাও বলেছেন সজল।সজল ঘোষ বলেন, ”রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে দুটোতেই বিজেপি জিতবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটোতেই প্রার্থী হন। হারিয়ে মজা পাব। আর না হলে ওনার ভাইপোকে একটা আসনে প্রার্থী করুক।”

আরও পড়ুন : ‘মানুষ পরিবর্তন শুরু করেছে, আর পিছনে তাকাবেন না’, বিপুল ভোট উপনির্বাচন জেতার দাবি দিলীপ ঘোষের
এই মন্তব্যের পর উপনির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।ফলে পুজোর আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট যে বাংলার রাজনীতিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে চলেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। এখন দেখার, বিজেপির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কোন মুখকে সামনে আনে তৃণমূল এবং অন্য রাজনৈতিক শিবিরগুলি। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলেই দুই কেন্দ্রের লড়াইয়ের আসল সমীকরণও অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে।













