গোল্ড লোন নেওয়ার কথা ভাবছেন? অপেক্ষা করুন, বাজেটে হতে পারে বড় ঘোষণা

Published on:

Published on:

A big announcement on Gold Loan can be taken in Budget 2026.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দেশের কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করতে চলেছেন। এই বাজেট ঘিরে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতোই সোনার ঋণ (Gold Loan) শিল্পের দিকেও তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ ও আর্থিক সংস্থাগুলি। সাম্প্রতিক বছরে ভারতীয় পরিবারগুলির মধ্যে সোনার ঋণের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংকটের সময়ে ঘরে রাখা সোনা হয়ে উঠেছে সহজ আর দ্রুত অর্থের ভরসা। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে সোনার ঋণ সংক্রান্ত নীতিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দাবি উঠেছে।

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এ গোল্ড লোন (Gold Loan) নিয়ে হতে পারে বড় ঘোষণা:

মুথুট ফাইন্যান্স, মান্নাপ্পুরম ফাইন্যান্স-সহ একাধিক নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থা (NBFC) সরকারের কাছে জানিয়েছে, সোনার ঋণ গ্রহণকারীদের বড় অংশই মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শিল্প সংস্থাগুলির দাবি অনুযায়ী, অধিকাংশ সোনার ঋণের অঙ্কই ৫০ হাজার টাকার কম। এই টাকা সাধারণত চিকিৎসার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, কৃষিকাজ কিংবা ছোট ব্যবসা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, এই ঋণ সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবিকা ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন: নামমাত্র বেতন বৃদ্ধ, SSK-MSK শিক্ষকদের বেতন কাঠামোয় ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজ্যের ৪০ হাজার কর্মী

কিন্তু সমস্যার জায়গা তৈরি হচ্ছে অর্থের জোগানে। ব্যাঙ্কগুলি যখন এই ধরনের গ্রাহকদের ঋণ দেয়, তখন তা অগ্রাধিকার খাত ঋণ বা প্রাইওরিটি সেক্টর লেন্ডিং (PSL)-এর আওতায় পড়ে। ফলে ব্যাঙ্কগুলি কম সুদে তহবিল পায়। অন্যদিকে, একই ধরনের ঋণ দিলেও NBFC-রা এই সুবিধা পায় না। তাদের বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি সুদে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে গ্রাহকের ঋণের সুদের হারে। তাই শিল্পের দাবি, ব্যাঙ্কের মতো NBFC-কেও সোনার ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার খাতের মর্যাদা দেওয়া হোক।

ডিজিটাল লেনদেনের যুগে সোনার ঋণকে আরও সহজলভ্য করতে শিল্পের আরেকটি বড় প্রত্যাশা ‘গোল্ড ক্রেডিট লাইন’। প্রস্তাব অনুযায়ী, UPI অ্যাপের মাধ্যমেই গ্রাহকরা সোনার বিপরীতে একটি ক্রেডিট লাইন ব্যবহার করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা তোলা যাবে এবং আয় হলে তা ফেরত দেওয়ার সুবিধাও থাকবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ উচ্চ সুদের মহাজনি ঋণের ফাঁদ থেকে অনেকটাই মুক্তি পেতে পারেন বলে মনে করছে শিল্প মহল।

A big announcement on Gold Loan can be taken in Budget 2026.

আরও পড়ুন: শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচিতে ‘সমঝোতা’, নবান্নের বদলে মন্দিরতলায় ধর্নার অনুমতি হাই কোর্টের

এছাড়াও সোনার ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলি তাদের পরিচালন নীতিতে কিছু ছাড় চেয়েছে। বর্তমানে NBFC-গুলির উপর একক-কাউন্টারপার্টি এক্সপোজারের কড়া সীমা রয়েছে। শিল্পের যুক্তি, সোনার ঋণ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ঋণ হওয়ায় খেলাপির ঝুঁকি অত্যন্ত কম এবং এই খাতের ঋণ পরিশোধের রেকর্ডও যথেষ্ট ভাল। তাই এক্সপোজার সীমা টিয়ার-১ মূলধনের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। বাজেটে যদি এই দাবিগুলির প্রতিফলন ঘটে, তবে সোনার ঋণ আরও সস্তা ও সহজ হয়ে উঠতে পারে সাধারণ মানুষের জন্য।