বাংলা হান্ট ডেস্ক: মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Exam 2026) শুরুর আগে স্কুলে ঘটলো বিস্ফোরণ। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এর ১ নম্বর ব্লকের নাককাটি হাই স্কুলে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি নজরে এসেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের। জানা যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরি সময় রান্নার সিলিন্ডার থেকে আগুন ধরে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Exam 2026) কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ:
সকল ১০ টা থেকে স্কুলে প্রবেশ করতে শুরু করেছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। স্বাভাবিকভাবেই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা এটা, তাই কিছুটা টেনশনে ছিল ছাত্র-ছাত্রীরা, সঙ্গে অভিভাবকরাও। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে বিস্ফোরণ ঘটে স্কুলে আর তাতেই কেঁপে ওঠে ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবক এবং উপস্থিত সকলে। জানা যাচ্ছে যে তুফানগঞ্জ নাককাটি স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর ঠিক ১৫ মিনিট আগে বিস্ফোরণ হয়। সেখানে চা তৈরির সময় রান্নার সিলিন্ডার থেকে আগুন ধরে যায়। ওখানে ছিলেন একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার। তিনি বিষয়টি দেখতে পেয়ে ছুটে যান। এই ঘটনায় হইচই পড়ে গেছে এলাকায়।
জ্বলন্ত সিলিন্ডারটিকে স্কুলের বাইরে মাঠে বার করে নিয়ে যাওয়া হয় আর তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। তুফানগঞ্জ এর এসডিপিও শ্রী কন্নোধারা মনোজ বলেন, ‘স্কুল চত্বরের ক্যান্টিনে, একটি সিলিন্ডারে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। কর্তব্যরত সিভিক ভলেন্টিয়ার স্কুলের মাঠে সিলিন্ডারটিকে ফেলে দেয়। মাঠেই সিলিন্ডারটি ফাটে।’ দুর্ঘটনায় কোন হতাহতের কোনও খবর নেই। ঘটনার পরই ওই স্কুলে যায় দমকল বাহিনী। তারা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। বলাভূত হাই স্কুল এবং বিদ্যাসাগর হাই স্কুল এছাড়া কৃষ্ণপুর হাই স্কুল, এই তিন স্কুলের মোট ২১০ জন পরীক্ষার্থী ঐ সময় তুফানগঞ্জ নাককাটি হাই স্কুলে পরীক্ষা দিতে গেছিল। তবে অভিভাবকরা প্রচন্ড ক্ষিপ্ত। তাদের মতে স্কুলের গাফিলতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেতে পারতো। সিলিন্ডারের টুকরোগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে আছে।
আরও পড়ুন:মাছের ভেড়িও ছাড় পেল না! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তপ্ত হাড়োয়া
এই দুর্ঘটনার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করা হলে, প্রধান শিক্ষক দুলাল বসাক বলেন, ‘আসলে ছোট সিলিন্ডারে পরীক্ষার্থীদের জন্য জল গরম এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা করা হচ্ছিল। হঠাৎ সিলিন্ডারে আগুন লেগে যায়। তবে এই ঘটনায় পরীক্ষায় কোন প্রভাব পড়েনি। পরীক্ষা সঠিক সময় শুরু হয়েছে।’ যে সিভিক ভলেন্টিয়ার রাজিবুল হক সিলিন্ডারটি বাইরে নিয়ে যায়, তিনি বলেন যে, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি অনেক চেষ্টা করেন আগুন নেভাতে, ভেজা কাপড় জড়িয়ে দিয়েছিলেন সিলিন্ডারে, কিন্তু তাতেও আগুন নেভেনি। তাই একটি বাঁশের সাহায্যে সিলিন্ডারটি মাঠের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে রাখেন তারা এবং মিনিট পাঁচেক পরেই তীব্র বিস্ফোরণে সেটি ফেটে যায়।
আরও পড়ুন:ট্রাম্প থেকে শুরু করে মাস্ক! এপস্টাইন ফাইলসে রয়েছে আর কাদের নাম? হইচই সারা বিশ্বে

এই ঘটনায় এখনো পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক, সকলেই আতঙ্কগ্রস্ত। আশা করা হচ্ছে যে খুব দ্রুত হয়তো সকলেই এই অনভিপ্রেত ঘটনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে। তবে পরীক্ষা সঠিক সময় শুরু হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় কোন বিঘ্ন ঘটেনি।











